রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মালদ্বীপের অর্থনীতিতে কর্মরত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশীর অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে জনশক্তি, পর্যটন, মৎস্য ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোয় সহযোগিতা আরো জোরদার করা যেতে পারে।
গতকাল বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। পারস্পরিক আস্থা, সৌহার্দ্য ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।’
এ সময় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি এজন্য তাকে ধন্যবাদ এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানান। ঢাকায় একটি বিজনেস সামিট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করলে তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ হবে।’
বাংলাদেশে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের সুযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এক্ষেত্রে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে।’
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো কার্যকর ও জোরদার করতে আগ্রহী।’ এ লক্ষ্য অর্জনে মালদ্বীপের সহযোগিতা ও ইতিবাচক ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও একাধিক ভাষা শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলাম প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল সকালে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পৃথক দুটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।










