পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই খুলনায় বছরের পর বছর চলছে ইটভাটা। এসব ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে গাছ। ভাটার কালো ধোঁয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের বাসিন্দারা।

মৃত্তিকা ও পরিবেশবিষেশজ্ঞদের দাবি, নদী, খাসজমি দখল বা ফসলি জমিতে যে হারে ইটভাটা স্থাপন হচ্ছে তাতে পরিবেশ যেমন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তেমনি মাটির উর্বরতা হারিয়ে ফসলহানির শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ফসলি জমি রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে বলেও মনে করেন তারা।

জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেশির ভাগ ইটভাটা জনবসতি এলাকা ও ফসলি জমিতে স্থাপিত হয়েছে। হরি, ভদ্রা, শোলমারি, পশুর, আতাই, কপোতাক্ষসহ কমপক্ষে ১০-১২টি নদীর পাড় ঘিরে ইটভাটাগুলো গড়ে উঠেছে। এতে সংকুচিত হচ্ছে নদী। কমছে ফসলি জমি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘নদী, খাসজমি দখল বা ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অনেক ইটভাটায় আইন ভঙ্গ করে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এতে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক চাপের কারণেই এসব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের ম্যানেজ করে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চলছে এবং রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। আমরা অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আইন মোতাবেক প্রতি তিন বছর পরপর জেলা প্রশাসন থেকে ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এছাড়া প্রতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। যেগুলোকে ছাড়পত্র দেয়া হয় না, তাদের এক বছর সময় দেয়া হয় ভাটা সরিয়ে নেয়ার জন্য। এর বাইরে যেসব ভাটা ছাড়পত্র না নিয়ে চলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, ‘নদী, খাসজমি দখল বা ফসলি জমিতে অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’