খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণের মেয়াদ শেষ হলেও মাত্র ১১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য একজন ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে এ নির্মাণকাজ করছেন।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর, খুলনা ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, খুলনা শহর থেকে ১০৫ কিলোমিটার দূরে ৩১ শয্যার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৬৪ সালে স্থাপিত হয়। সেখানে ২০১১ সালে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়। পরে ৩১ শয্যার পুরনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ২০২২ সালে তা অপসারণ করা হয়।

২০২২ সালের ১৬ আগস্ট ৩১ শয্যার তিনতলা ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স ও মেসার্স শামীম আহসান ট্রেডার্স। তবে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজটি করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

ছয়তলা ফাউন্ডেশনের তিনতলা ভবন নির্মাণকাজের ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮০ টাকা। কাজ সমাপ্তির মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের ১২ জুন পর্যন্ত। তবে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও মাত্র ১১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর, খুলনার সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণে একজনের লাইসেন্সে অন্য কেউ কাজ করছে কিনা, সেটা আমাদের জানা নেই। আমরা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করি ও তাগিদ দিই।’

প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান আরো বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নি‌র্দিষ্ট সময়ের ম‌ধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  করে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কাজের গ‌তি বাড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তা‌গিদ দেয়া হ‌চ্ছে।’ 

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পুরনো দোতলা ভবন অপসারণ করায় শয্যা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের মেঝে কিংবা বারান্দায় রাখতে হচ্ছে। নারী-পুরুষের পৃথক কোনো ওয়ার্ড নেই। এক্স-রে মেশিন স্থাপনের কক্ষ নেই, বহির্বিভাগে ডাক্তারদের বসার কক্ষ সংকট রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল আহসান টিটো বলেন, ‘আমার লাইসেন্স নিয়ে কয়রা-পাইকগাছার একজন টেন্ডার নিয়েছিলেন।’ তবে তার নাম বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বর্তমান সংসদ সদস্য কাজটি করছেন। তবে কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।’ 

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘গুণগতমান ঠিক রেখে যাতে কাজটি দ্রুত শেষ হয়, সেদিকে আমি বিশেষভাবে নজর রাখছি। তবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিতে ঠিকাদার কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করছেন।’