শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাপদ্ধতি অত্যন্ত ক্রটিপূর্ণ। গত ৫০ বছর ধরে এটি মানের দিক থেকে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নেমেছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। এটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা ধারণা দিতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষাক্রম আরো আধুনিক করতে চেষ্টা করবে সরকার। বিশেষ করে আইটি সেক্টরে। এখানে যেহেতু আমরা পেছনে পড়ে গেছি সেখান থেকে আবার শুরু করতে হচ্ছে। শিক্ষাক্রমকে আধুনিক না করলে অর্থবহ হবে না।’
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইউএপি-তে ওয়ার্ল্ড ম্যাথ টিম চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪ এ বাংলাদেশীদের সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এখন আমরা একটি পরিবর্তনের অবস্থায় আছি। একটি জায়গায় যাচ্ছিলাম সেখানে গেলে ফেরত আসা যেত না বলে থামিয়ে দিয়েছি। পেছন থেকে আমাদের সামনের দিকে যেতে হবে। আমরা চাই না যে নবম শ্রেণী থেকে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসা আলাদা করে দেয়া হোক। এরকম ভাগ আসলে প্রয়োজন নাই। পেছনে যাওয়ার কারণ হলো কিছু উচ্চতর গণিত ও বিজ্ঞানের বিষয় এবং মোটামুটি ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি বিষয় নবম শ্রেণী থেকে শুরু করতে পারি। কেউ এসব বিষয় নিতে চাইলে তারা যদি নবম শ্রেণী থেকে না নেয় তাহলে পরে নেয়া যায় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি জাতিকে ভালো করতে গেলে সব ছাত্রের গণিতে ন্যূনতম দক্ষতা থাকা দরকার। গণিতের প্রীতি-ভীতি দুটোই আছে। গণিতকে যদি ভালোভাবে পড়ানো যায় এবং আর্কষণীয় করে তোলা যায় তাহলে এ ভীতি চলে যাবে। এ বিষয়ে ভালোভাবে পড়ালে এবং কষ্ট করলে পারবে। অংকে ভীতি এটি আন্তর্জাতিক রোগ। যেকোনো দেশের শিশু অংককে ভয় পায়। ভয় পেলেও ভালো অনুশীলনের মাধ্যমে এটি শেখা যায়।’
ওয়ার্ল্ড ম্যাথ টিম চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তরুণ গণিতবিদদের অদম্য মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা আমাদের সকলকে গর্বিত করেছে। তারা শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি, তারা বিশ্বকে দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের মেধাবীরা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই।’
ড. ওয়াহিদউদ্দীন বলেন, ‘তোমাদের এ সাফল্য সমগ্র জাতির জন্য এক অনন্য প্রেরণা। তোমাদের এই অর্জন আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে যে আমরা বিশ্বের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। তোমাদের এ সাফল্য যেন ভবিষ্যতের পথচলায় আরো উৎসাহ ও প্রেরণা জোগায়।

দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানে ‘গণিতের সংস্কৃতিকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হলে’ শীর্ষক আলোচনায় শিক্ষা গবেষক রাখাল রাহার সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের প্রশিক্ষক ড. মাহবুব মজুমদার, এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন ড. সাইফুর রহমান বকাউল, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জি আর আহমেদ জামাল, এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর ও জিওক্যাল ইউএসএ এর প্রকৌশলী কামরুজ্জামান কামরুল।
তারা বলেন, ‘সারা দেশে গণিতের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে এবং গণিতের বিকাশে প্রয়োজন কারিকুলামগত পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। প্রাথমিক পর্যায় থেকে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগে গুরুত্ব দিতে হবে। গণিত যে একটি সর্বজনীন বিষয় সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই ছড়িয়ে পড়বে গণিত চর্চা।’
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ম্যাথমেটিকস টিম চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জার্নি নিয়ে আলোচনা করেন ‘বাংলার ম্যাথ’-এর তিন সহ-উদ্যোক্তা আহমেদ শাহরিয়ার, এসএম মাহতাব এবং আশরাফুল আল শাকুর। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান ও দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন, গণিত প্রেমী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন প্রধান অতিথি শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড ম্যাথমেটিকস টিম চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউএমটিসি) ২০২৪-এ অংশগ্রহণ করে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল ৬টি স্বর্ণপদক, ১১টি রৌপ্যপদক, ৭টি ব্রোঞ্জপদক ও ৩টি মেধা সম্মাননাসহ মোট ২৭টি পদক অর্জন করেছে।










