খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও মেসার্স আরএস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অলিউর রহমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী ফারহানা চৌধুরী দুই সপ্তাহ ধরে লাপাত্তা রয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে অলিউর চৌধুরীর কাছে প্রায় ৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে পাওনাদাররা তার বড় ভাইকে চাপ দিচ্ছেন। প্রতারণার মাধ্যমে ওই টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন তারা। এ ঘটনায় অলিউরের বড় ভাই চৌধুরী জাহিদুর রহমান খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ডায়েরিতে জাহিদুর রহমান উল্লেখ করেছেন, গত ২২ এপ্রিল নগরীর পিটিআই মোড়ের বাসা থেকে বিকাল ৪টার পর অলিউর স্ত্রীসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এর পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জাহিদুর রহমান জানান, ছোট ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীরা পাওনা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে খুলনা চেম্বারে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এরপর নিজের প্লট, অলিউরের জায়গা বিক্রি ও তার শ্বশুরবাড়ির সহযোগিতায় প্রায় ৫ কোটি টাকার দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। এখনো ১৫ ব্যবসায়ী প্রায় ৪ কোটি টাকা পান বলে দাবি করছেন।

খুলনা চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শরীফ আতিয়ার রহমান জানান, অলিউর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসি, টিভি, ফ্রিজ সরবরাহের কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। যার একটি অংশ পাওনা রয়েছে।

কেসিসির ২৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও চেম্বারের পরিচালক জেডএ মাহমুদ ডন বলেন, আমিও তার কাছে টাকা পাই। থানায় সাধারণ ডায়েরি হওয়ার আগের দিনও অলিউরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন টাকা ম্যানেজ করে দেবেন। তারপর শুনলাম তার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।

খুলনা চেম্বারের পরিচালক জোবায়ের আহমেদ খান জানান, আমার সঙ্গে ব্যবসার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন অলিউর। স্ট্যাম্পে লিখিত আকারে ব্যবসায় পার্টনার হয়েছিলাম। তবে অনেক ব্যবসায়ীর টাকা তিনি জমি বিক্রি করে আংশিক পরিশোধ করেছেন।

এ বিষয়ে সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুজিত মিস্ত্রি বলেন, ২৬ এপ্রিল থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ। এগুলো সর্বশেষ ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকার উত্তরা এলাকায়।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, অলিউর রহমান এখন চেম্বারের পরিচালক নেই। তিনি নিজেই এক মাস আগে পদত্যাগ করেছেন। ওয়েবসাইট থেকে দু-একদিনের মধ্যে ছবিসহ সব ডাটা সরিয়ে ফেলা হবে। তার পরিবার ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য খুলনা চেম্বারের নেতারা সবসময়ই ব্যবসায়ীদের পাশে আছেন।