গাইবান্ধায় বেড়েছে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়-আঁচড়ে আক্রান্তের সংখ্যা। তাদের বেশির ভাগই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হচ্ছে। অনেকেই বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনে আনছেন। কেউ কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
আক্রান্তরা জানান, জেলার সাত উপজেলা থেকে সপ্তাহে হাজারের অধিক মানুষ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা ও র্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে আসেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে। তবে চিকিৎসা মিললেও সরকারিভাবে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যায় জলাতঙ্কে। রোগটি প্রতিরোধের প্রধান প্রতিষেধক হলো র্যাবিস ভ্যাকসিন। প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকে টাকা দিয়ে দোকান থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছেন। তবে অর্থাভাবে ভ্যাকসিন না পেয়ে অসচ্ছলরা ফিরছেন খালি হাতে। একেকটি ভ্যাকসিন চারজন রোগী মিলে ভাগ করে কিনে পুশ করছেন। অনেকেই সময়মতো ভ্যাকসিন না নেয়ায় পড়ছেন মৃত্যুর ঝুঁকিতে।
ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের নার্স মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভ্যাকসিন না পেয়ে প্রতিদিন রোগীরা হট্টগোল করেন। অনেকের টাকা না থাকায় বাইরে থেকেও ভ্যাকসিন কিনতে পারছেন না।
একদিকে ভ্যাকসিন সংকট, অন্যদিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীদের ভোগান্তি। জরুরি এ টিকার ঘাটতি দূর না হলে জেলায় ছড়িয়ে পড়বে জলাতঙ্ক রোগ। এতে বাড়বে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনের ঝুঁকি। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পলাশবাড়ী থেকে ভ্যাকসিন নিতে আসা সজল মিয়া বলেন, ‘১০০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেছি। এখন খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি।’
চিকিৎসকরা বলছেন, জলাতঙ্ক মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়। এটিকে ঐতিহাসিকভাবে হাইড্রোফোবিয়া (পানির ভয়) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কারণ আক্রান্ত মানুষের মধ্যে পানি নিয়ে আতঙ্ক থাকে। কুকুরের লালার মধ্যে থাকে র্যাবিস ভাইরাস (আরএবিভি)। এটি একটি সংক্রামক ভাইরাস, যা রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) ও প্রোটিন নিয়ে গঠিত। র্যাবিসকে লাইসা ভাইরাস হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। লাইসা ভাইরাস হলো সাতটি নিউরোট্রপিক (স্নায়ুতন্ত্রে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস) প্রজাতির ভাইরাসের একটি শ্রেণী, যা তাদের জেনেটিক উপাদান হিসেবে আরএনএ বহন করে। নিউরোট্রপিক ভাইরাস হিসেবে আরএবিভি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সংক্রমিত করে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান জানান, বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এজন্য সংকট দেখা দিয়েছে। বরাদ্দের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।’ রোগীদের সচেতনতা বাড়ানোসহ কুকুর, বিড়াল, শিয়াল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়নোর তাগিদ দেন তিনি।










