ভোলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে আহত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলমের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো।
ছাত্রদল সভাপতির মৃত্যুর ঘটনায় আজ ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। গতকাল নূরে আলমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরই ভোলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকেই এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৩১ জুলাই বেলা ১১টায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ভোলা জেলা বিএনপি। শহরের কালীনাথ রায়ের বাজার এলাকায় সমাবেশ শেষে মিছিল করতে রাস্তায় নামেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে পুলিশ বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ও ১৬৫ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। নিহত হন দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের হারেছ মাতব্বরের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিম। একই সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমকে ভোলা সদর হাসপাতাল নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে সেখানেও তার চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গতকাল চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমের মৃত্যুর খবরে বিক্ষোভ শুরু করেন ভোলার নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকাল থেকে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এরপর সাড়ে ৪টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের কয়েকটি স্থান প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে জড়ো হয়।
সেখানে রাস্তা অবরোধ করে দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, সহসাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, জেলা যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিমসহ অন্যরা। এ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকেই নূরে আলমের মৃত্যুর প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করা হয়।










