শুকনো মৌসুমে কুড়িগ্রামের গঙ্গাধর নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসে নাগেশ্বরী উপজেলার বালারহাট কন্যামতী এলাকায় ঘরবাড়ি হারিয়েছে দুই শতাধিক পরিবার। অনেকেই চলে গেছে নদীর ওপারের চরে। আবার অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বালারহাট বাজারসহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেশকিছু ঘরবাড়ি।

নদীপারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীর ভাঙনে শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হলেও প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। একাধিকবার যোগাযোগ করেও মেলেনি সমাধান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প চলমান থাকলেও গঙ্গাধর এবং তিস্তায় এ ধরনের প্রকল্প নেই। এজন্য ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিয়ে পরছেন না তারা।

গঙ্গাধর নদী ভারতের আসাম প্রদেশের ধুরড়ী জেলার গোলকগঞ্জ থানার পাটমারি দিয়ে কুড়িগ্রামে প্রবেশ করেছে। নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালাহাট দিয়ে বল্লভেরখাস ইউনিয়নের মাদারগঞ্জের ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নদটি খরস্রোতা হওয়ায় ভাঙনও প্রবল। শুকনো মৌসুমে নদীতে তেমন পানি না থাকলেও বামতীরের প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদীতীরের বাসিন্দারা জানান, এরই মধ্যে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব পরিবারগুলো চলে গেছে নদীর ওপারের চরে।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাটের বাসিন্দা নুরনবী জানান, নারায়ণপুরে গঙ্গাধর নদীর ভাঙন রোধে কোনো কাজ করা হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সীমান্ত এলাকার অজুহাতে বারবার পাশ কাটিয়ে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গঙ্গাধরের ভাঙনে বসতভিটা হারানো শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বাড়ি সরিয়ে নিয়ে আরেকজনের জায়গায় রেখেছি। এখন যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। এর আগে একবার ভাঙনে বসতভিটা হারাতে হয়েছিল। তখন নদীপারে নিজস্ব একটু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। কিন্তু এবার সেটাও চলে গেছে।’

ভাঙন রোধের বিষয়ে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প চলমান। গঙ্গাধর ও তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো প্রকল্প নেই। স্থায়ী প্রকল্পের মাধ্যমে এ দুটি নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’