সোমালিয়ার
জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের দ্বিতীয় প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামের
পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আমরা এক মাস ধরে খুব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলাম, এখন তৌফিকের
ফেরার খবরে আমরা খুবই আনন্দিত।
শুক্রবার
(১২ এপ্রিল) এমভি আবদুল্লাহ ও নাবিকরা মুক্ত হওয়ার পর এভাবেই তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন
তাদের আনন্দ অনুভূতির কথা।
তৌফিক খুলনা
নগরীর সোনাডাঙ্গার ২০/১ করিমনগর এলাকার ইকবাল হোসেন এবং দিল আফরোজ দম্পতির ছেলে। তিন
ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাড়ি থেকে গত ২৫ নভেম্বর জাহাজে গিয়েছিলেন তিনি।
তৌফিকের স্ত্রী
জোবায়দা নোমান বলেছেন, তৌফিক ভোরে ফোন করেছিল। বলেছে, জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়েছে,
এখন ভালো আছে।
তিনি বলেন,
‘বেশিক্ষণ কথা হয়নি। কারণ ও তখন ব্যস্ত ছিল। সবকিছু গুছিয়ে পরে আবার কথা বলবে বলে জানিয়েছে।
বলেছে চিন্তা করো না, দোয়া করো। দুবাই রওনা দিয়েছি।’
নগরীর করিমনগর
এলাকার বাড়িতে বসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তিনদিন আগে ঈদ গেলেও ঈদে আমাদের ঘরে
কোনো আনন্দই ছিল না। গত এক মাস অনেক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল। এখন তৌফিকের ফেরার খবরে আমরা
খুবই আনন্দিত। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’
তৌফিকের মা
দিল আফরোজ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া। আমার ছেলেসহ ২৩ জন জলদস্যুদের কবল
থেকে ছাড়া পেয়েছে। আমাদের আনন্দের শেষ নেই। পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। আমরা এখন অপেক্ষায়
আছি, দ্রুত তারা ফিরে আসুক।’
আফরোজ আরো
বলেন, ‘তৌফিকের ফেরার খবরে তৌফিকের স্ত্রী জোবায়দা, দুই সন্তান তাসফিয়া (৭) ও রুসাফির
(৫) মুখে হাসি দেখে আমি খুবই খুশি।’
তিনি বলেন,
‘আমরা সরকার, জাহাজ কোম্পানির কাছে কৃতজ্ঞ, দ্রুত তাদের মুক্ত করেছে। আমরা সাংবাদিকদের
প্রতিও কৃতজ্ঞ। তারা সব সময় বিষয়টি নজরে রেখেছে। আমাদের খবর দিয়েছে।’
গত ১২ মার্চ
দুপুরে ভারত মহাসাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশের কবির গ্রুপের এসআর শিপিংয়ের
মালিকানাধীন জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। জিম্মি করা হয় জাহাজটিতে থাকা ২৩ জন বাংলাদেশী নাবিককে।
মোজাম্বিক
থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল।










