গতকাল বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া লালানগর স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের একসঙ্গে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন। চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দেরাজাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১২ মে রাতে ওমানের আল মিলিদ্দা এলাকার আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহতে একটি গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার হয়। রয়্যাল ওমান পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এগজোস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাস নেয়ার ফলে ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছলে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সেগুলো গ্রহণ করেন রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
জানাজা শেষে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।’ এ সহযোগিতার জন্য তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আরো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের দাফন ও পরিবহন ব্যয় বাবদ ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
এর আগে সকালে রাঙ্গুনিয়ার বাড়িটিতে গিয়ে চারপাশে কয়েকশ মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউ কান্না করছেন। কেউ আবার মারা যাওয়া চারজনের স্মৃতিচারণায় ব্যস্ত। ঘরের ভেতরে গিয়ে আহাজারি করতে দেখা যায় মারা যাওয়া চারজনের মা খাদিজা বেগমকে। সেখানে আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আকতারও। তারা আহাজারি করতে করতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন।
সাফিয়া বেগম নামের এলাকার এক নারী বলেন, ‘ঘরে কারো কথা বলার মতো অবস্থাই নেই। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। তাদের মাকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো ভাষাও কেউ খুঁজে পাচ্ছি না।’










