বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের সিদ্ধান্তকে বিএনপি স্বাগত জানায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ মন্তব্য করেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফল আসার পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা তোলেন। এরপর একই কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যপ্রার্থী শিশির মনিরও।

জামায়াত-এনসিপিসহ ১১টি দল মোর্চা গঠন করে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসন নিতে যাচ্ছে। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দেড় যুগ পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

মন্ত্রিসভায় যেমন বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী থাকেন, তেমনি ছায়া মন্ত্রিসভায়ও বিরোধী দলের বিভিন্ন সদস্যকে একেকটি দপ্তরের দায়িত্ব দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী কী করছেন, তার ওপর নজর রাখেন তিনি। আবার ছায়া মন্ত্রিসভায় সরকারের মন্ত্রীদের সবার বিপরীতে ছায়া মন্ত্রী নাও থাকতে পারেন। এটি বিরোধী দলের সিদ্ধান্ত যে তারা কোন বিষয়ে ছায়া মন্ত্রী রাখতে চায়।

সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ম্যান্ডেট আছে নির্বাচন কমিশনের। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সে হিসেবে আগামীকাল (আজ) সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি।’

সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই সিইসির। যদি সেটি সংবিধানে ধারণ করা হয়, সংবিধান সংশোধন হয় এবং কে শপথ পাঠ করাবে তা নির্ধারিত হয়, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ হতে পারে।’

গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেছেন, ‘দেশের সব বিভাগেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। এগুলোকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে।’