বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ গুথুমা শান্তিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও জামবিল আশ্রয়ণ প্রকল্প। দীর্ঘ ২৬ বছর সংস্কারহীন এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ব্যারাকের টিনগুলো মরিচা ধরে ঝরে পড়ছে। অনেক আগেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে শৌচাগারগুলো। টিউবওয়েল থাকলেও পানির দেখা মেলে না অনেক বছর। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে না পারা সমাজের নিম্নবিত্ত ও হতদরিদ্র মানুষ তার পরও ছাড়তে পারছে না আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। এখানে থেকে সন্তানদের নিয়ে বৃষ্টির দিনে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মাঝেমধ্যে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এসে আশ্বাস দিলেও ১৯৯৬ সালে উদ্বোধনের পর আর কোনো সংস্কারকাজ এখানে হয়নি। এতে প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী সহস্রাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্ষার পানি ঘরে পড়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। 

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন, গৃহহীন এবং হতদরিদ্র মানুষের জন্য ১৯৯৭-৯৮ সালে পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ গুথুমা শান্তিপাড়া ও জামবিল এলাকায় দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প স্থাপন করে তত্কালীন সরকার। শান্তিপাড়ায় সাতটি ব্যারাকে ৭০টি পরিবার ও জামবিল এলাকায় ছয়টি ব্যারাকে ৬০টি পরিবার মাথাগোঁজার ঠিকানা পায় এসব আশ্রয় কেন্দ্রে। তত্কালীন সময়ে জনবসতিহীন দেশের সীমান্তবর্তী এ এলাকায় হতদরিদ্র এসব মানুষের বসতি স্থাপনের পর এখন লোকারণ্যে ভরে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে বসতি করেছে এসব এলাকায়। নানা সূচকে এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে মানুষের জীবনের গতি ও আয় রোজগার। কিন্তু দিন ফিরছে না আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী হতদরিদ্র এসব মানুষের। দু-একটি পরিবার আর্থিকভাবে কিছুটা সচ্ছলতা লাভ করে আশপাশে নিজস্ব বসতি নির্মাণ করে নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করেছে। যারা এখনো আশ্রয়ণের বাসিন্দা রয়েছেন তারা ঝরাজীর্ণ ঘরে জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকম পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছেন।      

আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ব্যারাকে ১০টি পরিবারকে সংস্থাপন করা হয়। প্রতি ব্যারাকের জন্য তত্কালীন সময়ে পৃথক শৌচাগার ও সুপেয় পানি জন্য টিউবওয়েল বসানো ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মাথায় ব্যারাকের টিনগুলো মরিচা ধরে ঝরে ঝরে পড়তে থাকে। শৌচাগারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়। পানি না ওঠায় চাপকলগুলোও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রকল্পের বাসিন্দারা জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবাসন প্রকল্প এলাকায় সংস্কারের দাবি জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা পায়নি। এ অবস্থায় নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঘরগুলো জোড়াতালির সংস্কার করে কোনো রকম দিনাতিপাত করছে। অনেকেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে অগভীর নলকুপ বসিয়ে খাবার পানি ও রিং বসিয়ে শৌচাগারের ব্যবস্থা করেছেন। আবার কেউ কেউ রাতের গভীরে খোলা পরিবেশে শৌচকর্ম ও অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করে যাচ্ছেন। 

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দত্ত জানান, পুরনো আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ এ মুহূর্তে নেয়া যাচ্ছে না। সরকার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নতুন করে ২৪টি ঘর নির্মাণ করছে। আপাতত আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান বণিক বার্তাকে জানান, পরশুরামের দক্ষিণ গুথুমা ও জামবিল এলাকায় প্রায় দুই যুগ আগে স্থাপিত আবাসনের ঘরগুলো সংস্কারহীনতায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে—এমন বিষয় কেউ আমাকে অবহিত করেনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।