নওগাঁর ধামইরহাট ও সাপাহার সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১৮ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গতকাল ভোরে ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া ও সাপাহারের বামনপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাদের ‘পুশ-ইন’ করা হয়। পরে বিজিবির সদস্যরা তাদের আটক করেন।

তাদের মধ্যে ধামইরহাট সীমান্ত থেকে আটক হয়েছেন বাদশা মিয়া (২০), ইমরান গাজী (৩৪), নাজমুল হাসান (২৪), মোছা. নূপুর খানম (২২), মোছা. মনিরা খাতুন (১৮), মোছা. রাবেয়া শেখ (২৮), বাবু শিকদার (১৭), প্রিয়া শিকদার (২৬), মোছা. ববিতা শিকদার (৩৫), মোছা. দুলি বেগম (৪০), মোছা. সুমা মোল্লা (৪), রায়হান মোল্লা (৪), মোছা. আশিকা খানম (৪) ও ফাতেমা শেখ (৭) তাদের বাড়ি খুলনা, নড়াইল ও যশোর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।

সাপাহার সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে মোছা. হেনা খাতুন (৩৮), রূপালী (৩৫), চাঁদনী (৮) ও রমজানকে (২)। তাদের বাড়ি নড়াইল জেলার বিভিন্ন গ্রামে।

বিজিবি ১৪ (পত্নীতলা) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ভোরে ১৪ বিজিবির কালুপাড়া বিওপির টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতনাপাড়া আমবাগানে তাদের ঘোরাঘুরি করতে দেখে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সাতক্ষীরা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের বোম্বাই শহরে চারজন পুরুষ রাজমিস্ত্রি এবং সাতজন নারী বাসাবাড়িতে কাজ করতে যান। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় পুলিশ (সিআইডি) তাদের আটক করে। গতকাল ভোরে ভারতের বালুরঘাট বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ করে।

ধামইরহাট থানার ওসি মো. ইমাম জাফর বলেন, ‘বিজিবি এখনো আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করেনি। হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বিজিবি জানায়, সাপাহার সীমান্ত থেকে আটকরাও কয়েক বছর আগে ভারতের মুম্বাইয়ে গিয়ে বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। সম্প্রতি মুম্বাই পুলিশ তাদের আটক করে ‘চেকব্যাক’ প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের ছত্রাহাটি বিএসএফ ক্যাম্পে পাঠায়। তাদেরও বাংলাদেশ ‘পুশ-ইন’ করা হয়।

সাপাহার থানার ওসি মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আটককৃতদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’