বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘যে-ই নির্বাচন প্রতিরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে আমাদের কিছু করা লাগবে না, জনগণ তাদের প্রতিরোধ করবে। এমনকি আমরাও যদি এমন কাজ করার চেষ্টা করি জনগণ আমাদেরও তা-ই করবে।’
গতকাল নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। এ সাক্ষাতে তারা বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ফেনী-১ আসনে টাকা দেয়ার ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ময়মনসিংহ, রামু, বগুড়ার কাহালু, লক্ষ্মীপুর, সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন বেআইনি কার্যক্রমের জন্য আটক করা হচ্ছে। ভিডিও প্রচার হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আমরা ইসিকে সেসব বিষয়ের নিউজ ও ভিডিও দিয়ে অভিযোগ করেছি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, যাতে আর কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে না পারে। এজন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সৈয়দপুরে টাকাসহ জামায়াত নেতাকে আটকের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়েছি। সৈয়দপুরে টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক হওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বলেছেন, ৫০ লাখ কেন ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বহন করতে পারেন। এটা ঠিক নয়। এ সময় কেন টাকা আটক করা হচ্ছে? কারণ সময়টা ভিন্ন। যদি সময়টা স্বাভাবিক থাকত তাহলে ইসি কেন বলেছেন বিকাশে ১০ হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না। নিশ্চয়ই কারণ আছে। ভোটারদের যাতে টাকা দিতে না পারে। সেজন্য এত বেশি টাকা বহনে বাধা দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইসির সিনিয়র সচিব বলেছেন, তিনি কখনো এমন কথা বলেননি। এটি মিসকোট করা হয়েছে। আমরা জানি না কে সত্য। যদি ইসির সিনিয়র সচিব এমন কথা বলে থাকেন তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক। আর যদি কোনো গণমাধ্যম মিসকোট করে প্রচার করে থাকে, সেটিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভালো কাজ নয়। আপনারা (সাংবাদিকরা) সত্যের সন্ধানী হিসেবে সত্য উদ্ঘাটন করুন।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক একটি কার্ড প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, কাস্টমসের অনুমতি নিয়েই জামায়াত নেতা টাকা বহন করেছেন। এখানেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কে তাকে প্রশ্ন করেছে? শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে এ টাকা কীভাবে গেল? কেউ তো জানতে চাইনি। তাহলে কেন তিনি নিজ থেকেই এ ব্যাখ্যা দিলেন? সবই রহস্যজনক।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ দুর্বল নয়। যারা এ পরিবর্তন চায় না তারা তো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতেই পারে। আবার যারা নির্বাচনে আছে, কিন্তু নিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে। এজন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত শক্ত ব্যবস্থা নেয়া।’










