দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিতে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশী কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আরো বাংলাদেশী চালক নিয়োগের জন্য আগামীকাল থেকে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিষয়টি অবহিত করেন দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চালক নিয়োগের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পুরো প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী প্রস্তাব দেন, বাংলাদেশ থেকে দুবাই যাওয়ার পর প্রশিক্ষণকালীন সময়ে বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে তা কর্মীদের জন্য সহায়ক হবে। পাশাপাশি তিনি শুধু চালক নয়, ডাক্তার ও নার্সসহ ‘হোয়াইট কলার’ বা পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের দিকেও নজর দেয়ার আহ্বান জানান।

দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী প্রতিষ্ঠানটিতে ট্যাক্সি ও লিমুজিন চালক হিসেবে কাজ করছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশী। তারা বলেন, বাংলাদেশী কর্মীরা পরিশ্রমী হওয়ায় তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এমনকি দুবাই বিমানবন্দরেও বাংলাদেশী নারী চালকেরা সফলভাবে ড্রাইভিং পেশায় যুক্ত আছেন।

প্রতিনিধি দল আরো জানায়, আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই শুরু হবে। এই ধাপে আরও প্রায় দেড় হাজার চালক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং চলতি বছরে মোট নিয়োগ সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে একজন ড্রাইভার পাঠাতে বর্তমানে উচ্চ ব্যয় হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করে। তিনি অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে তা ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানিটিতে কর্মী পাঠানোর একমাত্র অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ভবিষ্যতে শুধু চালক নয়, ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক হিসেবেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। এজন্য তারা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।