স্যানিটারি পণ্যের উচ্চ মূল্যের কারণে দেশের ৯১ শতাংশ নারী এখনো মাসিকের সময় কাপড় ব্যবহার করেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের গবেষণায় দেখা গেছে, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় (এমএইচএম) নারীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের নারীরা নিরাপদ ও সঠিক মাসিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গবেষণায় বলা হয়, ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব, মাসিক নিয়ে কুসংস্কার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে নারীরা নিরাপদ মাসিক ব্যবস্থাপনা করতে পারছেন না।
দেশের তিনটি জেলার নারীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ নারী ও কিশোরী তাদের শেষ তিনটি মাসিকে অন্তত একবার স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেছেন। শহরাঞ্চলে ৬৯ শতাংশ নারী ও গ্রামাঞ্চলে ৬০ শতাংশ নারী স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন। শহরের ৮৭ শতাংশ কিশোরী ও গ্রামের ৮৫ শতাংশ কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে।
অনেক নারী জানিয়েছেন, তারা বাইরে যাওয়ার সময় প্যাড ব্যবহার করলেও ঘরে থাকার সময় কাপড় ব্যবহার করেন। কারণ স্যানিটারি প্যাডের দাম অনেক বেশি।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বিকল্প মাসিক ব্যবস্থাপনা পণ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। মাত্র ২৭ শতাংশ নারী পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড সম্পর্কে জানেন এবং ১৩ শতাংশ মেনস্ট্রুয়াল কাপ সম্পর্কে জানেন। তবে সচেতনতার অভাব, উচ্চ খরচ ও সীমিত প্রাপ্যতার কারণে এ বিকল্প পণ্যগুলোর ব্যবহার খুব কম।
কুসংস্কার এবং অপর্যাপ্ত অবকাঠামো নারীদের জন্য মাসিক পণ্য পাওয়া আরো কঠিন করে তোলে। ৭৭ শতাংশ নারী সামাজিক নিয়মকানুন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং স্কুল ও কর্মস্থলে সঠিক সুবিধার অভাবে মাসিক স্বাস্থ্য সামগ্রী পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হন।
অন্যদিকে স্যানিটারি প্যাডের ব্যবহারের ফলে পরিবেশগত উদ্বেগও তৈরি হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় পরিবেশের ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য গবেষণা রিপোর্টে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— স্যানিটারি পণ্যের দাম কমানো ও ভর্তুকি বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি পণ্যের প্রসার ও সচেতনতা বাড়ানো, স্কুল ও কর্মস্থলে মাসিক স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার জন্য নিরাপদ স্থান তৈরি করা এবং মাসিক সংক্রান্ত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করা।










