দূর থেকে দেখলে মনে হবে নদীতে ছুটে চলছে আধুনিক মডেলের একটি প্রাইভেট কার। তবে এটি আসলে একটি স্পিডবোট, যা তৈরি করেছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাহাদ মিয়া।

গ্রামীণ জীবনকে বদলে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে তরুণ উদ্ভাবক রাহাদ। ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনের পাশাপাশি সে তৈরি করেছে ফায়ার ফাইটার রোবট, ওয়াল ক্লাইমবার রোবট। রাহাদ মিয়া ফুলছড়ি উপজেলার রতনপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে পার্শ্ববর্তী গুনভড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করছে।

তার তৈরি নৌযানটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের গ্রাম থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের মানুষ। কেউ বলছেন সিনেমার দৃশ্যের মতো। কেউ আবার বিশ্বাসই করতে পারছেন না—নদীতে চলছে গাড়ি।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন উদ্যোগ তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে উৎসাহ দেবে। পাশাপাশি নদী, চরাঞ্চলসহ গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত করবে এক নতুন মাত্রা।

ল্যাম্বরগিনি আকৃতির স্পিডবোটে একসঙ্গে পাঁচজন বসতে পারবে। বসার জন্য রয়েছে পাঁচটি সিট। ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে বোডটি। প্রতি ঘণ্টায় লাগবে দুই লিটার জ্বালানি তেল। সাধারণ স্পিডবোটের তুলনায় একটু উঁচু হওয়ায় পানি ওঠা বা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে লাইটিং সিস্টেমসহ ইমারজেন্সি সিগন্যাল ও উচ্চ সাউন্ডের সাইরেন।

তরুণ উদ্ভাবক রাহাদ মিয়া জানান, ল্যাম্বরগিনি আকৃতির স্পিডবোটটি বর্ষায় চলবে নদীতে। ভবিষ্যতে শুকনো মৌসুমে রাস্তায় চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তার। এজন্য যোগ করা হবে বিশেষ চাকা ও গিয়ার সিস্টেম। তবে বর্তমানে এটি কেবল নদীতে চলাচল করছে।

ফুলছড়ি উপজেলার মজিবর রহমান জানান, স্পিডবোটটি শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দরিদ্র পরিবারের ছেলে রাহাদ ঋণ করে স্পিডবোট বানিয়েছে। তাকে সরকারি বা বেসরকারিভাবে সহযোগিতা করা গেলে সে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারবে।