উত্তরের কৃষিনির্ভর জেলাগুলোর মধ্যে গাইবান্ধা অন্যতম। জেলার চারটি উপজেলায় চর ছিল ১৬৫টি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫টিতে। নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব চরে তরমুজ চাষ করছেন কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জেলার বিভিন্ন চরে এবার ২২ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে তিন, ফুলছড়িতে চার, সুন্দরগঞ্জে নয় ও সাঘাটা উপজেলায় এক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন চরে এবার ২২ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। চরের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় কৃষক তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। চরাঞ্চলগুলোয় তরমুজ চাষ বাড়ছে। কৃষক যাতে লাভবান হয়, সেজন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’
ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা একটি দুর্গম চর মানিককর। গত বছর এ সময়টাতে চরটি ছিল বিরাণভূমি। এবার চরে তরমুজ চাষ হয়েছে। চরের বুকে এখন সারি সারি তরমুজ গাছ। দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন চরের বুকে সবুজ কার্পেট। চাষীরা সে তরমুজ মাঠ থেকে সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। চরাঞ্চলের আবহাওয়া তরমুজ চাষে বেশ উপযোগী। তাই সমতল ছেড়ে চরের বেলে মাটিতে তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষি উদ্যোক্তারা।
সরজমিন দেখা গেছে, চরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তরমুজখেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। পরিচর্যার জন্য মাঠের মধ্যেই ছোট্ট তাঁবু তৈরি করে সেখানে থাকছেন তারা।
তরমুজচাষীরা জানান, চরের আবহাওয়া তরমুজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। চরের অনাবাদি জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন তারা।
এরই মধ্যে প্রথম দফায় তরমুজ বিক্রি করেছেন। দামও ভালো পেয়েছেন। ডিসেম্বরে জমি প্রস্তুত করে আস্থা জাতের বীজ বপন করেন। তিন মাস পর মার্চের শুরুতেই ফল পরিপক্ব হয়েছে।










