খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন বিভাগের মানুষ মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটে এখান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে পাচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় তীব্র চিকিৎসক সংকটে হাসপাতালটির কাঙ্ক্ষিত সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও হাসপাতালের রেটিনা, শিশু চক্ষু, অকুলো প্লাস্টিক, লো-ভিশন, ভিশন সেন্টার, লেজার ট্রিটমেন্ট, আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র, এমএলওপি কোর্সসহ বিভিন্ন বিভাগ চালু রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে এখানে অন্তত ৭৫ রোগীর চোখের অপারেশন করা হয়। বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নেন। বিনামূল্যে ছানিসহ বিভিন্ন রোগের অপারেশন করা হয়।
হাসপাতালটির অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে ৯১ জন চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭ জন। অর্থাৎ ৫৪টি পদই বর্তমানে শূন্য। জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে এ সংকট আরো প্রকট। সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১১টি পদের মধ্যে নয়টি ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১১টি পদের মধ্যে আটটি পদ শূন্য রয়েছে। ইনডোর ও আউটডোর মেডিকেল অফিসারের ৫৪টি পদের বিপরীতে ২৮ জন কাজ করছেন। এছাড়া ট্রেনিং লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকের পদগুলোও শূন্য পড়ে আছে।
চিকিৎসা নিতে আসা শিবচরের জ্যোতিন বিশ্বাস জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে ছানি অপারেশনের জন্য তাকে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাজশাহী থেকে আসা আব্দুল হালিম জানান, ট্রেন যোগাযোগ ভালো হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকেও অনেক রোগী এখানে সেবা নিতে আসছেন। সেবার মান সন্তোষজনক। তবে চিকিৎসক সংখ্যা বাড়ালে সাধারণ রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ল্যাবে সব ধরনের আধুনিক পরীক্ষার সুবিধা থাকলেও পাঁচটি ফ্যাকো মেশিন ও তিনটি অটো রিফ্লেক্টো মিটারসহ কিছু যন্ত্রপাতির সংস্কার ও সংযোজন প্রয়োজন। এসব আধুনিকায়ন করা গেলে এখান থেকেই আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শাহিন ইকবাল বলেন, ‘চিকিৎসক সংকট ও মেশিনারিজের কিছু সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।’
তবে হাসপাতালের সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর। তিনি বলেন, ‘চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে সব সমস্যার সমাধান করব। এখান থেকে দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের সেবা পাবেন।’










