কিছু কাজ অসমাপ্ত রেখে ২০২২ সালের প্রথম দিকে গাইবান্ধা শহরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই ২০১৭ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ বিভাগকে ৮৭ লাখ টাকা পরিশোধ করে সড়ক বিভাগ। তবে অর্থ পরিশোধের আট বছর হতে চললেও ৪৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি এখনো সরানো হয়নি। শহরের পশ্চিমে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পূর্ব রেলগেট পর্যন্ত এসব খুঁটিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ রয়েছে। একই অংশের দক্ষিণ পাশে নকশাবহির্ভূত ৪৯টি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এসব খুঁটির কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

অবশ্য বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, গত বছর ৪৪টি খুঁটির পাশে নতুন করে খুঁটি বসানো হয়েছে। সেই খুঁটিগুলোতে সংযোগ দিয়ে পুরনো খুঁটিগুলো অপসারণ করা হবে।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শহরের পূর্বদিকে বড় মসজিদ থেকে পশ্চিমে পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার চারলেন সড়ক নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে ৬ কোটি ও জমি অধিগ্রহণের জন্য ১১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ঢাকার এমএম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজের দায়িত্ব পায়। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সড়ক নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে সওজের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিছু কাজ অসমাপ্ত রেখে ২০২২ সালের প্রথম দিকে সড়ক নির্মাণ শেষ করা হয়। তবে সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় দুই পাশের বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এজন্য কাজ শুরুর আগেই ২০১৭ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ বিভাগকে ৮৭ লাখ টাকা পরিশোধ করে সড়ক বিভাগ।

পথচারীরা জানান, পৌর শহরের রেলগেট থেকে পশ্চিম অংশে ফায়ার সার্ভিস, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অফিস রয়েছে। এজন্য পশ্চিম অংশ সব সময় ব্যস্ত থাকে। এ অংশের খুঁটি সরাতে বিলম্ব হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। সড়কটিও সংকুচিত হয়েছে। উত্তর পাশের সড়ক থেকে খুঁটি না সরানোর কারণে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, ‘সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ খুঁটিগুলো সরানোর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’

অবশ্য নেসকোর গাইবান্ধা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসিফ বলেন, ‘সড়ক সম্প্রসারণে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে জমির মালিকরা বিদ্যুতের খুঁটি অন্যত্রে বসাতে বাধা দিচ্ছেন। এজন্যই খুঁটি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করলেই কাজ শুরু করা হবে।’