খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয় সোমবার সকাল ৮টায়। ভোট নেয়া হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)। নির্বাচন নিয়ে তৎপর ছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন অফিসে বসে সিসি ক্যামেরায় ভোট পর্যবেক্ষণ করা হয়। নির্বাচনে ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ তথ্য জানান। এর আগে বেলা ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ভোট পড়ার হার জানিয়েছিলেন ৩৫ শতাংশ।

বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি থাকায় সেখানে ৪টার পরও ভোট নেয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে, কোথাও ভোট বাতিল বা কোনো কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়নি।

খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা) ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙল), জাকের পার্টি মনোনীত এস এম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল) এবং একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক (দেওয়াল ঘড়ি)।

মেয়র প্রার্থীরা ভোট দিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানান আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দেবে আমি তা মেনে নেব। সোমবার খুলনা সিটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন।

অন্যদিকে ইভিএম মেশিনে ভোট নিতে অনেক সময় লেগেছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম শফিকুল ইসলাম মধু। এতে ভোট কারচুপি হতে পারে বলেও শঙ্কার কথা জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আউয়াল অভিযোগ করে বলেন, ইভিএমে হাতপাখায় চাপ দিলে ভোট নৌকায় চলে যাচ্ছে।

সোমবার সকালে পশ্চিম বানিয়াখামার দারুল কোরআন বহুমুখী মাদ্রাসায় ভোট দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। এদিকে নির্বাচনে সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম খুরশিদ আহমেদ টোনা এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে জেড এ মাহমুদ ডন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

খুলনা সিটির ৩১টি ওয়ার্ডের আওতায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২৮৯টি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন।