ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ব্যালটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা ছিল। তবে সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর চালানো হচ্ছে এবং হত্যা করা হচ্ছে। নিপীড়ন-নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ-সমাবেশে এসব কথা বলেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাটের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ-সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটটি। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বহু রক্ত-অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। মানুষ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষের ব্যালটের অধিকারের সঙ্গে নির্মম তামাশা করে একটি সাজানো ও পরিকল্পিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশজুড়ে আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ওপর যে পৈশাচিকতা চালানো হচ্ছে, মা-বোনদের শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ ও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে এবং আমাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে, তার মাধ্যমে বাংলাদেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা জাতির সামনে ভোটচোরদের উন্মোচন করতে পেরেছি। ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি, বরং জনগণের ভোট ডাকাতি করেছে। যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, তারা যদি জনগণের ওপর জুলুম করে, তবে আমরা বসে থাকব না। যারা বলেছে আমরা নির্বাচন চাই না—আমরা তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছি, আমরাই গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছি। বরং তোমরাই ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন মাধ্যমে জনগণের ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছ।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘সংসদে যাওয়ার আগেই আমাদের রাজপথে নামতে হবে, এটা ভাবিনি। জনগণের ওপর বিশেষ করে নারীসমাজের ওপর যে হামলা-নিপীড়ন হচ্ছে, তা জঘন্য অপরাধ। সংসদে ও সংসদের বাইরে ১১ দল একসাথে লড়াই করে যাবে।’

বিএনপিকে পুরনো সংস্কৃতির রাজনীতি থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘পুরনো সংস্কৃতির রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি। আপনারা পুরনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন বাংলাদেশে নতুন ব্যবস্থার রাজনীতিচর্চা করুন।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক উমর ফারুক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-৩ আসনের নিবনির্বাচিত এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।