জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ ঘটনায় এরই মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিএমপি কার্যালয়ে আজ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

তিনি বলেন, নাঈম হাসানের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের আচরণ পেশাদারসুলভ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য যদি অপেশাদার আচরণ করেন, তাহলে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে তাকেই বহন করতে হবে। বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই সদস্য হলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাশেদ। পাশাপাশি অভিযানে অংশ নেয়া পুরো টিমের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হবে বলে জানান তিনি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপি কমিশনার আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কোনো অবৈধ বস্তু পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থামানো হয়েছিল। তবে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশকে পেশাদার আচরণ করতে হয়। সেই ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি জানান, পুলিশের সোর্স পরিচয়ে একজন ব্যক্তি নাঈম হাসানকে মারধর করেছেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সিএমপি কমিশনার বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। পুলিশ কখনোই অপেশাদার আচরণকে প্রশ্রয় দেয় না এবং কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়মের দায় পুরো বিভাগ নেবে না।

এদিকে শনিবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার নাঈম হাসানের চট্টগ্রামের বাসায় গিয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।