গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আরো ছয়জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে উপজেলায় ২২ জনের শরীরে রোগটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ রোগে শতাধিক গবাদিপশু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ অবস্থায় গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে সচেতনতায় কোনো প্রচারণা না থাকায় এখনো ৯০ শতাংশ গবাদিপশু ভ্যাকসিনের বাইরে রয়েছে। এছাড়া ভ্যাকসিনের দাম সরকার ৮০ পয়সা নির্ধারণ করলেও খামারিদের গুনতে হচ্ছে ২০ টাকা।

খামারিরা বলছেন, অসহায় খামারিদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে একটি চক্র। ভ্যাকসিনের নামে আদায় করা হচ্ছে মোটা অংকের টাকা, অথচ রোগ নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো নিশ্চয়তা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লোকজিই ভ্যাকসিনের দাম ২০ টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ খামারিদের।

‎বামনডাঙ্গা গ্রামের আজহার মিয়া বলেন, ‘আমার চারটি গরু ও দুটি ছাগল রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে দুজন এসে ভ্যাকসিন নিতে বলেন। দাম জিজ্ঞাসা করলে তারা ২০ টাকা করে দাবি করেন। প্রাণিসম্পদ অফিসে গেলে আরো বেশি লাগবে বলেও জানান তারা। বাধ্য হয়ে ২০ টাকা করে দিয়েছি।’

‎সোনারায় ইউনিয়নের পূর্ব সোনারায় গ্রামের মো. রফিক মিয়া বলেন, ‘শুনেছি গরুর নতুন একটা রোগ ছড়িয়েছে। আমার বাড়িতে পাঁচটি গরু আছে। এখন টিকা কই আছে, কীভাবে পাওয়া যাবে কিছুই জানি না।’

‎খামারি সেজে কথা হয় ভ্যাকসিনেটর চন্দন কুমার রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পশুপ্রতি ২০ টাকা করে নিচ্ছি। এ টাকা আমাদের অফিসে জমা দিতে হয়।’

ভ্যাকসিনের দাম ৮০ পয়সা সরকার নির্ধারিত হলেও কেন বেশি নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অফিসের আনুষঙ্গিক কিছু খরচ আছে। সেগুলো এখান থেকে তুলতে হবে।’

‎সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগাছা ঘেঁষে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধি দল পীরগাছা সদর এবং পারুল ইউনিয়নের অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকা ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। এর মধ্যে আটজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জে এ রোগে এখন পর্যন্ত শতাধিক গরু মারা গেছে। তবে সচেতনতায় কোনো প্রচারণা না থাকায় এখনো ৯০ শতাংশ গবাদিপশু ভ্যাকসিনের বাইরে রয়েছে। আড়াই লাখ গবাদিপশুর বিপরীতে ভ্যাকসিন এসেছে মাত্র ২৬ হাজার ৪০০টি। ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে ২২ হাজার গবাদিপশু। অবশিষ্ট চার হাজার ডোজ দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলমান রেখেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তবে নতুন করে আরো ৫০ হাজার ভ্যাকসিন চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জে ‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কুমার দে বলেন, ‘আনুষঙ্গিক কিছু খরচ থাকায় ১০ টাকা করে নিতে বলা হয়েছে। এর বেশি নিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো গবাদিপশুর মালিককে ভয় দেখিয়ে নয় বরং কেউ টাকা দিতে অক্ষম হলেও তাকে ভ্যাকসিন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া আছে।’