খুলনা
ওয়াসার ২ হাজার ৩৩৪
কোটি ১৩ লাখ টাকার
মেগা প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। কেসিসির কর্তৃপক্ষের
অভিযোগ, কাজের ধীরগতিসহ সড়কে খোঁড়াখুঁড়িতে নগরবাসীর ভোগান্তি শুরু হয়েছে। এছাড়া কাজের ডিজাইনের টেকনিক্যাল ত্রুটিও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেসিসি।
কেসিসির চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির-উল জব্বার বলেন, ‘ওয়াসার কাজ বন্ধ রাখতে আমরা চিঠি দিয়েছি। নগরের একটি সড়কে ম্যানহোল তৈরিতে এক বছরের বেশি সময় লাগছে। এতে নতুন ফুটপাত ও ড্রেনসহ সব সড়কই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া যেভাবে ম্যানহোল তৈরি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কারের সময় তা আবার ভেঙে যেতে পারে কিংবা দেবে যেতে পারে। এতে তারা বিপাকে পড়বেন।’
প্ল্যানিং অফিসার আবির বলেন, ‘এরই মধ্যে এ কাজ নিয়ে নগরবাসী কেসিসিকে দোষারোপ করছে। এসব কারণে ডিজাইনে টেকনিক্যাল দিক যাচাই করতে ওয়াসার কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।’
তবে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হওয়ায় কেসিসি থেকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কেসিসি থেকে আগেও আমাদের বলা হয়েছিল তফসিল ঘোষণা হলে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘যেসব সড়ক খোঁড়া আছে তা দ্রুত ঠিক করে দিচ্ছি। আর নতুন করে কোনো সড়ক আপাতত খোঁড়া হচ্ছে না। শহরের প্রায় সব সড়কের মালিক কেসিসি। তাই তাদের নির্দেশ মানতে হচ্ছে। তবে কাজে টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা নেই। প্রকল্পের সব কাজ ঠিকমতো চলছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়াসা। শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য প্রকল্পের অনেক কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ওয়াসার তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের ২৮ জুলাই ‘খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার মধ্যে এডিবির ঋণ ১ হাজার ৪০৪ কোটি ৭১ লাখ এবং সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৯২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত করতে এর আগেই দুটি শোধনাগার এবং আটটি পাম্পস্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পে নগরের ১৫-৩১ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ হচ্ছে। প্রতিটি বাড়ির সামনেই পয়োনিষ্কাশনের পাইপ বসানো হচ্ছে। ওই পাইপের মধ্য দিয়ে পানি ও সেপটিক ট্যাংকের পানি নগরের ভেতরের আটটি পাম্পস্টেশনে যাবে। সেখান থেকে পাম্প করে বর্জ্য শহরের বাইরে মাথাভাঙ্গা ও ঠিকারাবাঁধ পরিশোধন কেন্দ্র দুটিতে পাঠানো হবে। নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নগরের প্রায় ৩০ হাজার বাড়ি থেকে পয়োবর্জ্য পাইপলাইনে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পের।
প্রথম প্রকল্পের কাজ শেষে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ থেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য পৃথক প্রকল্প নেয়ার কথা। পরিশোধনের জন্য আড়ংঘাটার শলুয়া এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসবে। এগুলো ১০ ইঞ্চি থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত চওড়া। সড়কের প্রশস্ততা অনুযায়ী কোথাও সড়ক খুঁড়ে, আবার কোথাও মেশিনের মাধ্যমে স্থাপন করার কথা।
এরই মধ্যে নগরের শেখপাড়া রোড, আহসান আহমেদ রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, টিবি ক্রস রোড ও সামছুর রহমান রোডে ম্যানহোল নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে মির্জাপুর ইউসুপ রোড, দারোগাপাড়া ও ট্যাংক রোডে ম্যানহোল তৈরির জন্য সড়কে গর্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় কেসিসি দাপ্তরিক চিঠি দিয়ে সড়কের সব কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।










