ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর-চাঁদপুরা সংযোগস্থলে প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত আয়রন ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নির্মাণের বছর দশেক পর সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত একবারও সংস্কার হয়নি। তবে বিকল্প না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে সেতুটি।

স্থানীয়রা জানায়, খোকন হাওলাদারের বাড়ির পাশের খালে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেঙে পড়েছে সিমেন্টের পাটাতন, লোহার খুঁটিগুলোও বাঁকা হয়ে গেছে। এরপর কাঠের পাটাতন দিয়ে কোনোমতে চলাচল চালু থাকলেও সেগুলো এখন ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ।

চাঁদপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘১৫ বছর ধরে ব্রিজটি ব্যবহারযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। বৃষ্টির দিনে অনেকে আসতেও পারে না।’

স্থানীয় বাসিন্দা সজিব হাওলাদার বলেন, ‘ব্রিজে উঠলে একপাশে কাত হয়ে যায়। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বহুবার শুনেছি, কাজ শুরু হয়নি।’

চাঁদপুরা অংশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ, অন্য পাশে রয়েছে ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঐতিহ্যবাহী বাজার। প্রতিদিন স্কুলশিক্ষার্থী ও বয়োবৃদ্ধসহ শতশত মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. নান্না হাওলাদার বলেন, ‘বন্যার পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় সেতুটি একবার আংশিক মেরামত করা হয়। কিন্তু সেটাও টেকেনি। এটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।’

নাচনমহল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম খোকন বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবীর বলেন, ‘ব্রিজটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সংস্কারের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’