ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের নাসির উদ্দিন ভিলেজ সড়কের ৬ দশমিক ৫৬ ফুটের একটি সরু সেতু এলাকাবাসীর দুঃখে পরিণত হয়েছে। সেতুটির কারণে এলাকায় বড় কোনো যানবাহন দূরে থাক ছোট পিকআপ ভ্যান কিংবা অ্যাম্বুলেন্সও প্রবেশ করতে পারে না। কেবল রিকশাভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা এ সরু সেতু পার হতে পারে। ফলে ১৮ গ্রামের মানুষ অন্তহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

সেতু অত্যন্ত সরু হওয়ায় ওই এলাকায় যেমন যানবাহনে পণ্য পরিবহন করা যায় না, তেমনি অসুস্থ ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেয়া ও  সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে যানবাহন নিয়ে যেতে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। ভারত সীমান্তঘেঁষা এ সড়কে ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি উচ্চ বিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসা রয়েছে। এছাড়াও দুটি বাজার, বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। দীর্ঘদিনেও জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রশস্ত ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে একটি প্রকল্প থেকে ফেনী-পরশুরাম সড়ক থেকে বের হওয়া চিথলিয়া ইউনিয়নের নাসির উদ্দিন ভিলেজ সড়কে মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও দুই মিটার প্রস্থের এ  সেতু নির্মাণ করা হয়। ওই সময় এসব এলাকায় জনবসতি ছিল কম। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তেমন কোনো কার্যালয়ও ছিল না। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আশপাশের এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বহুমুখী উন্নয়নে সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় বাড়তে থাকে মানুষের চলাচল ও বসতি। বর্তমানে উপজেলা সদর থেকে নাসির উদ্দিন ভিলেজ সড়ক হয়ে অন্তত ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি উচ্চবিদ্যালয়, তিনটি মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে হয়। এ সড়ক দিয়েই যেতে হয় শালধর ও রাজষপুর বাজারে। উপজেলা শহর থেকে চিথলিয়া ইউপিতে যেতেও ব্যবহার হয় নাসির উদ্দিন ভিলেজ সড়কটি।

এ সড়কের সেতুটি সরু হওয়ায় এলাকার মানুষ বিভিন্ন পরিবহনে পার্শ্ববর্তী ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন হয়ে ধনীকুণ্ডা দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে করে স্থানীয়দের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। এছাড়া সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়া ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে পরিবহন নিয়ে যাতায়াতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

স্থানীয় সাংস্কৃতিককর্মী গাজী মাসুদ রানা জানান, ভোটের সময় প্রার্থীরা প্রতিবারই এখানে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দেন। নির্বাচনের পর নতুন নতুন তত্পরতা দেখান। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, বৃহত্তর নোয়াখালী প্রকল্প জিএনপি-৪-এর আওতায় নাসির উদ্দিন ভিলেজ সড়কের পুরনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি নির্মাণ হলে স্থানীয়দের যাতায়াত নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে পরশুরাম উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম ভূঞা জানান, জিএনপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাত মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখানে সেতু নির্মাণের চেষ্টা রয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, সীমান্তঘেঁষা এ সড়কে একসময় মানুষের বসতি কম ছিল। তত্কালীন বাস্তবতার আলোকে সরু রাস্তায় সরু সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এখন ওই এলাকায় অনেক মানুষের বসবাস। সড়ক অনেক প্রশস্ত হয়েছে। কিন্তু নতুন বরাদ্দ ও অনুমোদন না পাওয়ায় এখানে সরু সেতুটি এখনো রয়ে গেছে। সেতুটি সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সুবিধা নিতে এলাকার বাসিন্দাদের অনেক দূর ঘুরে উপজেলা ও জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের চেষ্টা চলছে।