খুলনা নদীবন্দরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকার প্রতিরক্ষা প্রাচীরের প্রায় ৩০০ ফুটজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধ ও মেরামতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ ঘাটসংশ্লিষ্টদের।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে দ্রুত প্রাচীর মেরামত কাজ শুরু হবে।

ঘাটের ইজারাদার চৌধুরী মিনহাজ-উজ-জামান সজল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে ঘাটটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। ভাঙন মেরামতের পর কয়েক দফা বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ঘুরে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, জানি না। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ৬ অক্টোবর সিনিয়র প্রকৌশলীরা ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। আমরা ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি প্রাক্কলন তৈরি করেছি। সেটি অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, খুলনা নদীবন্দরের পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায় প্রথম ভাঙন দেখা দেয় ২০১৮ সালে। সময়মতো মেরামত না করায় ২০ ফুটের ভাঙন প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভাঙন মেরামতে বরাদ্দ দেয়া হয় আড়াই কোটি টাকা। ২০২১ সালে মেরামত শেষ হয়। কিন্তু এক বছর যাওয়ার আগেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেয়। এবারো সময়মতো মেরামত না করায় ভাঙন ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

খুলনা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঘাট এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি খারাপ। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে এখনো কেন মেরামত হচ্ছে না, এটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।’