গতকাল রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে সিবিএনএস-২ প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন ও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘সিবিএনএস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নার্সিং খাতের সংশ্লিষ্টদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সেমিনারে সিবিএনএস-২ প্রকল্প সম্পর্কে জানানো হয়, ২০২২-২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল সেবার কাঠামো শক্তিশালীকরণে আটটি বিভাগীয় নার্সিং কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেখানে বিভাগীয় সরকারি নার্সিং কলেজ, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার বাস্তবায়ন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী বলেন, ‘জাইকা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। সিবিএনএস-২ প্রকল্পটি এমটি ও সিএনটি সমন্বিত ক্যাসকেড মডেলের মাধ্যমে নার্সিং পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

এ প্রসঙ্গে জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়্যুকো বলেন, ‘সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতাগুলো উপস্থিত সবার কাছে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করাই এ সেমিনারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। যাতে করে এ প্রকল্প থেকে যে কার্যকর মডেল ও দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকায়ও উদ্যোগ পরিচালনা করা সম্ভব হয়।’

ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নার্সিং প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনাসহ শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার এবং ৪৮৬ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক তৈরি করা হয়েছে।

এ সেমিনারে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি ‘সিবিএনএস মডেল’ ও মডেলের চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করা হয়। যা ক্যাসকেড প্রশিক্ষণ, কার্যকর শিক্ষণ পদ্ধতি, কলেজ-হাসপাতাল সমন্বয় এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক শেখার মাধ্যমে টেকসইভাবে নার্সিং সেবার মানোন্নয়ন সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সে সময় নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পেশাজীবী সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা নার্সিং মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতা, নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।