ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং।এরইমধ্যে সিত্রাংয়ের প্রভাবে নদ নদী ও সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গিয়েছে ভোলার দক্ষিণের চর কুকরি-মুকরি ওঠা চর ইউনিয়নসহ উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল। ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার জানান, জোয়ারের আগেই পানির নিচে ঢালচর ইউনিয়ন ও কুকড়ি-মুকরি ইউনিয়নসহ চর পাতিলা, তারুয়া দ্বীপ ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলসহ উপকূলীয় বিভিন্ন স্থান। ঢালচরের পুরো ইউনিয়ন ডুবে গিয়েছে। সেখানকার কিছু কিছু বাসিন্দাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে নিয়ে আসা হলেও অধিকাংশরাই পানির মধ্যেই নিজেদের ঘরে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
অন্যদিকে প্লাবিত হয়েছে মনপুরা উপজেলার নিন্মাঞ্চল। দুপুর ১২ টার পর জোয়ার হওয়ার সঙ্গে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ সেন্টিমিটারের উপরে। এতে করে জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলই প্লাবিত হয়েছে। মনপুরা কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, উপজেলার হাজির হাট ইউনিয়ন ব্যতিরেকে এর আশেপাশের সকল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানির নীচে তলিয়ে আছে। সেখানকার কয়েক হাজার বাসিন্দারাই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
এদিকে জেলার বিভিন্ন চর অঞ্চলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ঢালচর, চরজহিরউদ্দিন, দক্ষিণ আইচা, কুকরি-মুকরি, চর ডেম্পেয়ার ও মনপুরায় সিডার চর, ভোলার মাঝের চর, চরম মদনপুরসহ আরো বিভিন্ন চরে বেড়িবাঁধ না থাকায় সেখানকার বাসিন্দারা রয়েছে চরম আতংকে। গাছপালা পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেতে গতকাল থেকেই বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে পুরো ভোলা জুড়ে। সকলকে নিরাপদে থাকতে জেলার প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন জেলা প্রশাসন ও রেডক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৭৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র ও এক হাজার ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় খোলা হয়েছে ৮টি কন্ট্রোল রুম। ১৩ হাজার ৬০০জন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। জেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও সাতটি উপজেলায় একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং জেলার বিচ্ছিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ভোলার নদী বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর সর্তক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। যাত্রীবাহী লঞ্চসহ সকল ধরনের নৌযান গুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।










