আমন মৌসুমের শুরু থেকেই নওগাঁয় চড়া দামে বিক্রি হয় ধান। একপর্যায়ে প্রতি মণ ধানের দাম গিয়ে ঠেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও কয়েক দিন ধরে কমতে শুরু করেছে ধানের দাম। পাঁচদিনের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে ১০০ টাকা। ধানের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে চালের দাম। গতকালও চড়া দামে চাল কিনতে হয়েছে ক্রেতাকে।

জেলার বিভিন্ন চালের মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও চিকন চালের দাম পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা এবং খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৫-৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হঠাৎ ধানের দাম কমতে শুরু করলেও চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় খুচরা বাজারেও বেশি দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানি করা চাল দেশের বাজারে ঢুকলে চালের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে দেয়ায় ২০১৭-১৮ সালের মতো নিয়ন্ত্রণহীন আমদানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানি হলে দেশের চালের বাজার অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মিলাররা চিন্তাভাবনা করে ধান কিনছেন। আমদানি করা চাল দেশের বাজারে ঢুকলে ভবিষ্যতে ধান-চালের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

নওগাঁর বড় ধানের মোকাম রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাট, মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়াহাট, মহাদেবপুর সদর ও উপজেলার মাতাজীহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, ওইসব বাজারে মোটা জাতের স্বর্ণা-৫ ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকায়। যা আগে বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ১ হাজার ১৬০ থেকে ১ হাজার ১৭০ টাকায়। আর গুটি স্বর্ণা (স্বর্ণা-৫১) ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০ থেকে ১ হাজার ৪০ টাকায়, যা আগে বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ১৩০ টাকায়।

রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক জব্বার হোসেন বলেন, সংসারের অভাব-অনটনের কারণে বাজারে ৩০ মণ ধান বিক্রি করতে এসেছি। আগে যেই ধান ১ হাজার ১৩০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। সেই ধান এখন ১ হাজার ৩০ টাকা মণে বিক্রি করতে হলো। হুট করে ধানের দাম এত কমে যাবে আগে বুঝলে ধান ঘরে রাখতাম না।

আবাদপুকুর বাজারের ধানের আড়তদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, চাল আমদানির খবর শোনার পর পরই অনেক মিলার আড়তদারদের জানিয়ে দিয়েছেন তারা আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ গাড়ি ধান কিনতেন, এখন সেখানে এক-দুই গাড়ি ধান কিনবেন। এছাড়া প্রশাসন ধান-চালের অবৈধ মজুদবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। গুদামে ধানের মজুদ রাখলে যেকোনো মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করতে পারেন। এ অবস্থায় আমি ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছি। আমার মতো অন্য আড়তদারদেরও একই অবস্থা।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বণিক বার্তাকে বলেন, সরকার চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে দেবে এমন খবরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা চাল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে মোকামে চাল বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে।

গত রোববার সরকার চাল আমদানির শুল্ক প্রায় ৩৭ শতাংশ কমিয়েছে। এ খবরে কিছুটা হলেও আমাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালের মতো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চাল আমদানি হলে ধানের দাম ২০১৮-১৯ সালের মতো ৬০০-৭০০ টাকায় নেমে আসতে পারে।