ভোলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে আহত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে-আলমের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার বিকাল ৩টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় ২ জনের প্রাণ গেল। ছাত্রদল সভাপতির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সেসময়েই জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়।

গ্যাস, বিদ্যুতসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৩১ জুলাই বেলা ১১টায় ভোলা জেলা বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। শহরের কালীনাথ রায়ের বাজার এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমাবেশ শেষে মিছিল করতে রাস্তায় নামেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১৬৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেক নেতা-কর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি নিহত হন দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের হারেছ মাতব্বরের ছেলে ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম। সে সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমকে ভোলা হাসপাতাল নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে প্রথমে বরিশাল শেবাচিমে পাঠানো হয়। সেখানকার ডাক্তাররা ব্যর্থ হয়ে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাত্ক্ষণিক ঢাকায় পাঠান। ৩দিন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর আজ বেলা ৩ টার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এদিকে ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমের মৃত্যুর খবরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ভোলা। বিকাল চারটার পর থেকে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এরপর সাড়ে চারটার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের কয়েকটি স্থান প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। সেখানে রাস্তা অবরোধ করে দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, সহ-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, জেলা যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন প্রমুখ। এ সময় বক্তারা আলমের মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করেন।