কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষী ও কৃষক। বন্যায় ভেসে গেছে ৩ হাজার ৮৭টি পুকুরের মাছ। এছাড়া জেলার নয়টি উপজেলায় দীর্ঘ সময় বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় আট হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, পটল, শসা, মরিচ ও কাউনসহ বিভিন্ন ফসল। কৃষি ও মৎস্য খাতে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৯ কোটি টাকা।
জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্লাবিত হয়ে পড়ে এসব নদ-নদী অববাহিকার নয়টি উপজেলার ৫৫ ইউনিয়ন।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে জেলার ৯ উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর আয়তনের মৎস্য খামার ও পুকুর তলিয়ে ২০৮ টন মাছ ভেসে গেছে।
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মৎস্যচাষী আমিনুল বলেন, ‘দুই মাস আগে পুকুরে কিছু পোনা ছেড়েছি। এবার বন্যার পানিতে সব ভেসে গেছে। জাল দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু রক্ষা করতে পারিনি। এছাড়া আমাদের এলাকায় অনেকের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোক্তাদির খান বলেন, ‘বন্যায় প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মৎস্যচাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছি। সরকার থেকে সহায়তা পেলে তাদের দেয়া হবে।’
এদিকে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে সবজি গাছ মরে যাওয়ায় পড়ে আছে খালি মাচা। এছাড়াও পানির নিচ থেকে ভেসে উঠছে পাট, পটল, আমন বীজতলা ও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির বিধ্বস্ত খেত। দ্বিতীয় দফার বন্যায় জেলার নয়টি উপজেলায় শুধু কৃষিতেই ক্ষতি হয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক মমিনুল বলেন, ‘আমার ৫০ শতক জমির পটোল নষ্ট হয়ে গেছে। আমন বীজতলাও নষ্ট হয়েছে। আমন আবাদ মনে হয় করা হবে না।’
একই ইউনিয়নের কৃষক মইনুদ্দিন জানান, ‘বন্যার পানিতে এখনো কিছু জমি তলিয়ে রয়েছে। বীজতলা করার মতো সময় এখন নেই। এবার আমন আবাদ করা যাবে কিনা, তা বোঝা যাচ্ছে না।’
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করছি। এছাড়া কৃষক যেন আমন আবাদ ভালোভাবে করতে পারেন সে পরামর্শ দিচ্ছি।’










