সরবরাহ সংকটে নাটোরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সব কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাস। কোম্পানিভেদে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। ডলার সংকটে দেশীয় কোম্পানিগুলো এলসি খুলতে না পারায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিলাররা। দেশীয় কোম্পানি বসুন্ধরার গ্যাস গত তিন মাস বন্ধ থাকায় এ সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

এদিকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলেও ডিলাররা দিচ্ছেন না কোনো রসিদ। সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ গ্যাস বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের। 

জানা যায়, গত ২ আগস্ট গ্রাহক পর্যায়ে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৯৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামে নাটোরের কোনো দোকানে মিলছে না সিলিন্ডার গ্যাস। তিন মাস ধরে সংকট শুরু হলেও হঠাৎ করে প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকায় ভাড়া বাসায় চার সদস্য নিয়ে বাস করেন সোহেল রানা। চাকরি করেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। হঠাৎ তার সিলিন্ডারে গ্যাস ফুরিয়ে যায়। খালি সিলিন্ডার নিয়ে নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরেও পাননি গ্যাস। বাধ্য হয়ে খালি সিলিন্ডার নিয়ে তাকে ফিরতে হয়েছে। কারণ বসুন্ধরার গ্যাস ব্যবহার করার কারণে খালি সিলিন্ডার দিয়ে কেউ গ্যাস দিতে যাচ্ছে না। 

এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারকারীদের। হঠাৎ করে সংকট দেখা দেয়ায় বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস। বাধ্য হয়ে দোকানে দোকানে ছুটছে মানুষ।  

নাটোর শহরের খুচরা সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হয় দুই শতাধিক দোকানে। কিন্তু কোনো দোকানেই মিলছে না সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস। খুচরা সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রেতা কৃষ্ণ কুমার বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে ১৫০-২০০ টাকা বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাদের। যার কারণে ভোক্তার কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ডিলাররা বেশি দাম নিলেও কোনো রসিদ দিচ্ছেন না। এতে করে ডিলাররা সংকট তৈরি করে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।’  

নাটোর শহরে যমুনা, বসুন্ধরা, লাফস, ওমেরাসহ বিভিন্ন কোম্পানি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করেন এমন ডিলার রয়েছেন ছয়-সাতজন। এসব ডিলার ঘর থেকে খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করে। কিন্তু ডলার সংকটে দেশীয় কোম্পানি এলসি খুলতে না পারায় ডিলার পর্যায়েও গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। যার কারণে বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। 

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় এ জ্বালানি পণ্যটির দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে গিয়ে হোঁচট খেতে হচ্ছে ভোক্তাকে। রাতারাতি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস তুলছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। এজন্য সরকারকে দ্রুত পদেক্ষপ নিতে হবে।’ 

নাটোরের জেলা প্রশাসক আবু নাসের ভূঁঞা বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কেউ বেশি দাম নিলে সেসব ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেসব ডিলার রসিদ দিচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

লাফ্স গ্যাসের ডিলার ও ফ্রেন্ডস পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ম্যানেজার বিদ্যুৎ কুমার বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে আমরা চাহিদামাফিক সরবরাহ পাচ্ছি না। যার কারণে আমাদের বাড়তি দামেও কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ডলার সংকটের কারণে কোম্পানিগুলো এলসি খুলতে পারছে না। যার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি ডিসেম্বরের আগে উন্নতি হওয়া সম্ভব না।’