কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। কুষ্টিয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা একটি মামলায় গতকাল এ রায় দেয়া হয়েছে। একই মামলার আরো কয়েকটি অভিযোগে হানিফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় মাহবুব-উল আলম হানিফসহ আসামি ছিলেন চারজন। অন্যরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তাদেরও ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে চার আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক।

সাজাপ্রাপ্ত সব আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তা বিক্রির অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। মামলার প্রথম অভিযোগে বলা হয়, হানিফের নির্দেশনায় অন্যরা পরিকল্পনা করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, বাবলু ফরাজী ও ইউসুফ শেখকে হত্যা করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। চার আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে ৫ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। ৭ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।