ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী থেকে কাতলামারী বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজটি করছেন ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম। সম্প্রসারণের জন্য এক বছর আগে সড়কের এক পাশ খুঁড়ে রাখা হয়। এর থেকে বন্ধ রয়েছে কাজটি। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কে চলাচলকারীদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণকাজ এখন তাদের জন্য এক স্থায়ী দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। উন্নয়নের আশ্বাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে রাস্তার এক পাশ খুঁড়ে ফেলে রেখে উধাও হয়ে গেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার।
সরজমিন দেখা গেছে, সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, কৃষিপণ্যবাহী ভ্যান ও ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সড়কে গর্ত আর খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বড় যানবাহন মাঝপথেই থেমে যায়। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হাসিনা পারভীন বলেন, ‘প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ভয়ে থাকতে হয়। সড়কটি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে গেছে যে একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ ভ্যান থেকে পড়ে গিয়েছিলেন সড়কে থাকা গর্তে।’
ভ্যানচালক মন্টু শেখ জানান, সড়কে থাকা গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই যাত্রীরা পড়ে যান। কখনো কখনো চাকা আটকে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকাল-বিকাল তারা সড়কে চলাচল করেন। ঠিকাদার শুরুতে কিছু কাজ করলেও পরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের এক পাশ খুঁড়ে রেখেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এর পর ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম আরো কোনো কাজ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার উন্নয়নের কথা বলে বাজেট দেয়। অথচ দুর্ভোগই আমাদের কপালে জুটছে। সড়ক খুঁড়ে রেখে ঠিকাদার উধাও হয়েছেন, এজন্য কোনো জবাবদিহিতা দেখা যায়নি।’
এ বিষয়ে ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুমের সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, কাজ শিগগিরই আবার শুরু হবে।
এ ব্যাপারে এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এর আগেও আমরা তাকে চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই কাজ শুরু করবেন। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা যাবে।’










