যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের হাটপাঁচিল গ্রামের শতাধিক নারী গ্রামীণ মেলায় বহুল প্রচলিত মুখরোচক খাবার ‘ঝুরি’
তৈরি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। হাটপাঁচিল গ্রামের এসব নারীর মধ্যে কেউ স্বামী পরিত্যক্তা, কেউ অশীতিপর বৃদ্ধা, কেউ ছিন্নমূল। আত্মপ্রত্যয়ী এসব নারী পরনির্ভরশীলতার বাধা পেরিয়ে এখন স্বাবলম্বী।
অসহায় নারীদের সাফল্য দেখে আশপাশের গ্রামের অনেক নারী এখন ঝুরি তৈরির কাজে ঝুঁকছেন। হাটপাঁচিল গ্রামের এক সময়ের অবহেলিত ও ভাগ্যবিড়ম্বিত এসব নারীর সাফল্যগাথা অনেকটা কল্পকথা মনে হলেও এটাই বাস্তবতা।
সরেজমিন হাটপাঁচিল গ্রাম গেলে ঝুরি প্রস্তুতকারক নারীরা জানান, তাদের বাড়িঘর, জমিজমা, সহায়-সম্বল কয়েক দফায় যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। একসময় তারাও নিঃস্ব ও উদ্বাস্তু হয়ে পড়েন। যমুনার তীরের এ গ্রামটি বালুচর হওয়ায় এখানে কোনো ফসলের আবাদও হয় না। পাশের গ্রামগুলোতেও জীবিকা নির্বাহের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কাজও সচরাচর পাওয়া যায় না। যমুনার ভাঙনে তাদের মতো কর্মহীন নারীর দিন কাটছিল অতিকষ্টে, অর্ধাহারে-অনাহারে। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দুবেলা দুমুঠো ভাতের জোগান দেয়াটাই তাদের জন্য হয়ে ওঠে অসাধ্য ব্যাপার। এর মধ্যে অনেক পরিবারের পুরুষ সদস্য তাদের স্ত্রী-পরিজন ফেলে অন্যত্র চলে গিয়ে আবার সংসার পাতেন। ফলে অনেক নারী হয়ে পড়েন স্বামী পরিত্যক্তা। বাধ্য হয়ে অসহায় এসব নারী জীবিকার তাগিদে ঝুরি তৈরি ও বিক্রির কাজ বেছে নেন। এর মাধ্যমেই তাদের জীবনে দিনবদলের পালা শুরু হয়। ঝুরি বিক্রি করে তারা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। এরপর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাদের। এভাবেই হাটপাঁচিল গ্রামের শতাধিক নারী ঝুরি তৈরির কাজ করে বর্তমানে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন। নারী হয়েও আয় করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি অনেকেই তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। আবার অনেকে ঝুরি তৈরির পাশাপাশি বাড়িতে গবাদি পশু পালন করে আয়ের পথ সুগম করছেন।
এ গ্রামের ঝুরি প্রস্তুতকারক নারীরা আরো জানান, ‘দিনে একজন নারী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় এক মণ ঝুরি তৈরি করতে পারেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। কেজিপ্রতি তারা ঝুরি বিক্রি করছেন ৮৫-৯০ টাকায়। এতে কেজিতে তাদের ১০-১৫ টাকা মুনাফা হচ্ছে, যা মণপ্রতি দাঁড়ায় ৩৮০-৫০০ টাকা। শাহজাদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের তৈরি ঝুরির বেশ চাহিদা থাকায় বিক্রিতে কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হলে হাটপাঁচিল গ্রামের নারীরা ঝুরিকে একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত করতে সক্ষম হবেন।











