জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির নলছিটিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। বেশির ভাগ এলাকার নলকূপেই পানি উঠছে না। এমনকি অকেজো পড়ে আছে পৌরসভা ও ইউনিয়নের হাজারেরও বেশি গভীর নলকূপ। সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে নলছিটি পৌরসভার দুটি সাপ্লাই ইউনিট থাকলেও তাদের পানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন নয়। সুপেয় পানির সংকটে অনিরাপদ পানি ব্যবহার করায় পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, গ্রাহকদের প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা দুবার পানি সরবরাহের কথা থাকলেও নিয়ম মানছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া সুগন্ধা নদীর পানি নিয়ে পৌরসভার নান্দিকাঠি এলাকার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট শোধনাগারে পরিষ্কার করে পরিবেশনের কথা থাকলেও প্রায়ই সেই পানিতে কাদা ও ময়লা থেকে যায়। এতে সাপ্লাইয়ের পানি সংযোগ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছে পৌরবাসী।
আগে যেখানে মাটির ৭০০-৮০০ ফুট গভীরে মিলত বিশুদ্ধ পানি, এখন তা এক হাজার ফুট গভীর থেকেও তোলা যাচ্ছে না। এতে উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। দূষিত পানি ব্যবহার করায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহের তথ্যে দেখা গেছে, হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ পানিবাহিত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সরজমিনে পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টিউবওয়েলে এক কলসি পানি তুলতে আধঘণ্টা সময় লাগছে। বারবার নলকূপ মেরামত করেও কাজ হচ্ছে না। এ অবস্থায় তীব্র পানি সংকটে পড়েছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় দুই লাখ মানুষ। এ জনসংখ্যার প্রায় ৫০ ভাগই সরকারিভাবে বসানো চার হাজারসহ মোট ১০ হাজার গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করে। বাকিরা বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে পৌরসভার সাপ্লাই, নদী, খাল ও পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করে।
কুলকাঠি গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, ‘টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় আমরা পুকুর ও খালের পানি রান্নাবান্নায় ব্যবহার করি। এতে গত এক মাসে শিশুরা ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে উপজেলার নাচনমহল ও মোল্লারহার ইউনিয়নের ১ হাজার ২৫৭ পরিবারকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ হাট বাজারগুলোয় তিন হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ১৮টি পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
নলছিটি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৗশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবদুস সোবাহান বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা প্রায়ই গভীর নলকূপে পানি না ওঠার খবর পাচ্ছি। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে এ অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হবে।’
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন, ‘সাপ্লাই, বৃষ্টি ও পুকুর-জলাশয়ের পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে বিকল্প ব্যবহারে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।’










