করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকেই দেশের হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেন সংকটের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মাঝামাঝি কভিডের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ বিষয়টিকে আবারো সামনে নিয়ে আসে। ওই সময়ে হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। টারশিয়ারি পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোয় বেশকিছু অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপনও করা হয়। যদিও এর মধ্যে অনেকগুলোই এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে চালু করা যায়নি।

সরকারের বেশ কয়েকটি বিভাগের সচিব ও পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তও নেয়া হয় বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনটি অক্সিজেন জেনারেটর এখনো কার্যকর করা যায়নি।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও চট্টগ্রাম কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদন করতে কয়েক মাস আগেই কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেনারেটর সরবরাহ করেছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় তা চালু করা যায়নি। তবে বর্তমানে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। কাজ শিগগিরই শেষ হলে জেনারেটর স্থাপন করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সিলিন্ডার ও পাইপলাইননির্ভর কেন্দ্রীয় সংযোগের (সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন) পাশাপাশি জেনারেটরের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। টারশিয়ারি পর্যায়ের বিভিন্ন হাসপাতালে এ জেনারেটর স্থাপন করা হচ্ছে। এটির মাধ্যমে বাতাস থেকে অক্সিজেন আলাদা করে তা সিলিন্ডার বা লাইনের মাধ্যমে রোগীকে সরবরাহ করা হয়। তবে জেনারেটরে উৎপাদিত অক্সিজেনের চাপ কম হওয়ায় এটি দিয়ে সংকটাপন্ন রোগীদের বাঁচানো যায় না। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার (এইচএফএনসি) মাধ্যমে এ অক্সিজেন দেয়া যায় না। এ জেনারেটর দিয়ে সাধারণত মিনিটে ১৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব। এ দিয়ে অক্সিজেনের সাধারণ চাহিদা মেটানো যাবে। তবে জেনারেটর থেকে পাওয়া অক্সিজেন আরো প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমাত্রায় সরবরাহ করা যাবে।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. খলিলুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে অক্সিজেন জেনারেটর যখন হাসপাতালে আসে, তখন এর অবকাঠামো নির্মাণের জায়গা ছিল না। বর্তমানে অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় শেষ। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবন নির্মাণ করছে।

ভবন নির্মাণ শেষ হলে জেনারেটর চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ করা হবে। তা শেষ করতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। হাসপাতালে কোনো অক্সিজেন সংকট নেই। সিলিন্ডার ও কেন্দ্রীয় লাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক গতিতেই অবকাঠামোর কাজ শেষ হচ্ছে।

অনেকটা একই কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমাদের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই চালু করা যাবে। বিষয়টি আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছি। জেনারেটর চালু না থাকলেও অক্সিজেন সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। জেনারেটর চালু হলে অক্সিজেনের আরো একটি উৎস মজুদ থাকবে।

এদিকে গোপালগঞ্জে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে এখনো হাসপাতাল স্থাপন হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা জেনারেল হাসপাতালে প্রায়োগিক শিক্ষালাভ করে থাকেন। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালের অনুকূলে দুটি জেনারেটর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানের অভাবে আমরা তা স্থাপন করতে পারছি না।