ওই চার ভাই হলেন মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ সাহেদ, মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদ। তাদের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওমানে অবস্থান করছিলেন চার ভাই। তাদের একজনের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। দুজনের আজ দেশে ফেরার কথা ছিল। ঘটনার দিন বিয়ের কেনাকাটা করতেই চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। এর মধ্যেই পথে গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।

চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় ওই চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন। পরে সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন। সেখানে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।’

স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, রাত ৮টার পর ভাইদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা বলেন। নিজেদের লোকেশন পাঠিয়ে তিনি বলেন, ‘‌গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থাও তাদের নেই। পরে গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল, এতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে ওমান পুলিশ।

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানান, চার ভাইয়ের মরদেহ স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। স্পন্সরের পক্ষ থেকে কাগজপত্রের কাজ সারা হলে আগামী রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর সময় এসি ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে গাড়ির গ্লাস সামান্য খুলে আবার বন্ধ করা উচিত। এতে গাড়ির ভেতরে ক্ষতিকর গ্যাস জমে থাকার ঝুঁকি কমে।’