বরিশাল ১ (গৌরনদী- আগৈলঝাড়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। নিজ নির্বাচনী আসনের ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম. মিরাজ হোসাইন
নির্বাচনী প্রচারণায় কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আমি এখানে থেকে গত ৩৫ বছর যাবত জাতীয় সংসদ নির্বাচন করি। দুইবার নির্বাচিতও হয়েছি। এর বাইরেও আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সকলের পরিচিত। প্রায় গত ১৭-২০ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন তাদের হাতে ভোটাধিকার ফিরে এসেছে। সব মিলিয়ে অভূতপূর্ব গণজোয়ার তৈরি হয়েছে।
ভোটাররা আপনার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণ কি বলে মনে করেন?
আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে পরিক্ষিত মানুষ। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কথা মানুষ কথার সঙ্গে কাজের মিলটাই বেশি করে দেখতে চায়। রাজনীতিতে মানুষের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে আস্থাভাজন থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় আমার কাছে মানুষের সম্পর্কটা খুবই একটা নিখাদ সম্পর্ক এটাই আমার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ।
এলাকার তরুণদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আমাদের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তারুণ্যে ভরপুর। ভোটারদের মধ্যেও প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ তরুণ ভোটার। সেই বিবেচনায় কৌশলগতভাবে আমি তরুণদের নিয়ে কাজ করছি ও চিন্তা করছি। প্রচলিত রাজনৈতিক তৎপরতার বাইরে তরুণদের নিয়ে আমরা বেশ কিছু কর্মসূচি করেছি। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরেও সৃজনশীল তৎপরতার মধ্যে আমরা এখানকার তরুণদের যুক্ত করতে চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাহিত্য প্রতিযোগিতা, প্রশ্নোত্তর পর্ব— এগুলোর মধ্যেই তরুণদের যুক্ত করেছি।
সংখ্যালঘুদের নিয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?
আমাদের দেশে শুধু নয় পৃথিবীর যে কোনো দেশে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সংখ্যালঘুদের একটা চাপের মধ্যে থাকতে হয়। আমাদের দেশেও যথারীতি সে সমস্যা আছে। সে কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়। একথা অস্বীকার করার মতো কোন কারণ নেই যে অনুপস্থিত আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে একটা আস্থা ধরে রাখতে পেরেছিল। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই সেটা কমতে শুরু করেছিল। বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর এ আস্থা প্রায় ফুরিয়ে গিয়েছে বলতে গেলে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রশ্ন এবং সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের সমান অধিকারের প্রশ্ন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেভাবে সামনে এনেছেন তাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির মধ্যেই, ধানের শীষের মধ্যেই আস্থা খুঁজে পাচ্ছে। দলের এ বক্তব্য যথাযথভাবে এলাকার অমুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে পরেছি।
কোন পেশাজীবীদের ভোট বেশি পাবেন মনে করেন?
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ভোটই বেশি পাব বলে মনে করি।
ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে?
ব্যক্তিগতভাবে তেমন কোনো আশঙ্কা দেখিনা। তবে একথা ঠিক প্রথম থেকেই নির্বাচন বিরোধী একটা মহল দেশে তৎপর ছিল, এখনো আছে। কিন্তু নির্বাচনের পক্ষে এমন একটি গণজোয়ার তৈরি হয়েছে যে নির্বাচনবিরোধী পরিচয় দেয়ার মতো দুঃসাহস দেখাবে না।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী
আমার নির্বাচনী এলাকা যেহেতু একটু গ্রামের মধ্যে সে জন্যে আমরা গ্রামীণ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছি। সবখানে পাকা রাস্তা দিয়ে চলাচল এবং সাধারণ যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে—এটাই গ্রামের মানুষদের অবকাঠামোর প্রথম চাহিদা। এ খাতে বিগত সরকারের কোনো মনোযোগ ছিল না। মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে প্রায় সব টাকাই কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল। আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিষয়ে ভোটের মাঠে আপনার কৌশল কি?
আমাদের যে বিশাল ভোটার আছে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াটাই আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ ও কৌশল।










