টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের জানালীহাট এলাকায় রেললাইনের একাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ ও বৈদ্যুতিক তার পড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যহত হয়েছে। এতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ৮১৬ নম্বর পর্যটক এক্সপ্রেস মাঝপথে আটকা পড়ে। অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী ৮২২ নম্বর প্রবাল এক্সপ্রেসও দোহাজারী স্টেশনে আটকে যায়। এতে চারঘণ্টা আটকে থাকা পর্যটক এক্সপ্রেস উল্টোপথে ষোলশহর নিয়ে আসা হয়েছে। অন্যদিকে পৌনে দুই ঘণ্টা আটকে থাকা প্রবাল এক্সপ্রেস দোহাজারী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে ষোলশহর স্টেশন ছেড়ে যায়। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ষোলশহর-জান আলী হাট সেকশনের ৯/২-৫ কিলোমিটার এলাকায় রেললাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় ট্রেনটি থামিয়ে দেয়া হয়। পরে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও নিরাপত্তার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটির পেছনে ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনের ৭/২-৩ কিলোমিটার (ফরেস্ট গেট) এলাকায় একটি গাছ ভেঙে রেললাইনের ওপর পড়ে সেকশনটি ব্লক হয়ে যায়। ফলে সামনে পানিতে তলিয়ে থাকা রেললাইন এবং পেছনে গাছ পড়ে যাওয়ায় পর্যটক এক্সপ্রেস কার্যত দুই দিক থেকেই আটকা পড়ে।

অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ৮২২ নম্বর প্রবাল এক্সপ্রেস দুপুর ২টা ২০ মিনিটে দোহাজারী স্টেশনে পৌঁছে। পটিয়া এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ, বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা থাকায় ট্রেনটিকে সেখানে আটকে রাখা হয়। পরে বিকেল ৪টায় রেললাইন থেকে গাছ, বৈদ্যুতিক তারসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের পর ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা পুনরায় শুরু করে। দোহাজারীতে ট্রেনটি মোট ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অবস্থান করে।

এদিকে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছ অপসারণে কাজ চালায়। বিকেল ৪টায় ষোলশহর–জানালীহাট সেকশনের ফরেস্ট গেট এলাকায় গাছ অপসারণ করা হয়। এছাড়া গোমদণ্ডী-পটিয়া সেকশনের ১৭/৬-৭ কিলোমিটার এলাকায় বিকেল ৪টা ২ মিনিটে, পটিয়া–দোহাজারী সেকশনের ৩২/১-২ কিলোমিটার এলাকায় বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে এবং ফৌজদারহাট-সিজিপিওয়াই সেকশনের ৫/১-২ কিলোমিটার এলাকায় বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে ফেলা হয়।

প্রতিবন্ধকতা অপসারণের পর বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটে আটকে থাকা ৮১৬ নম্বর পর্যটক এক্সপ্রেসকে পুশব্যাক করে ষোলশহর স্টেশনের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হয়। ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে ষোলশহর স্টেশনে পৌঁছে অবস্থান নেয়। রেললাইনের পানি না নামলে ট্রেনটি চট্টগ্রামের এই স্টেশনে অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন রেলের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) ফারহান মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রবল বৃষ্টিতে রেললাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পটিয়া এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ ও বৈদ্যুতিক তার পড়ে থাকায় প্রবাল এক্সপ্রেসও আটকে ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রবাল এক্সপ্রেসকে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং পর্যটক এক্সপ্রেসকে পুশব্যাক করে নিরাপদে ষোলশহর স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত দুই দিন ধরে চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়া, গাছ উপড়ে পড়া এবং বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ায় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে-ট্রেনটির পেছনের লাইনে গাছ পরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে ট্রেনটি পেছনের নিকটবর্তী স্টেশনে আনা সম্ভব হয়নি। এতে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনের ৮০০ যাত্রী ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। আবার কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেসেও দোহাজারীতে আটকে থাকায় চট্টগ্রামগামী যাত্রী ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।