গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে নাগরিক মঞ্চের আয়োজনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে অবস্থিত গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে, অ্যাডভোকেট ফারুক কবীরের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু।
কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন নাগরিক মঞ্চের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, আইনজীবী কুশলাশীষ চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক, মানবাধিকার কর্মী শহিদুল ইসলাম, মনির সুইট, সেলিনা আক্তার সোমা, নাজমা বেগম, সাজিদা পারভীন রুনু, মাহবুব সাগর, রবিদাস নেতা খিলন রবিদাস, আদিবাসী নেতা ব্রিটিশ সরেন, শিক্ষার্থী আফজাল সিরাজ, আজমাইন মাহতাব, পার্থ সারথি, সন্ধান বর্মণ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল। রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা দেয়ার নামে নেয়া হচ্ছে টাকা, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিতে হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে দুর্গন্ধ। বারবার অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠলেও নেই কোনো প্রতিকার।
বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার অনুমোদন পেলেও সে অনুপাতে জনবল অনুমোদন দেয়া হয়নি। বর্তমানে মাত্র ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে হাসপাতালটি চললেও এতে অনেক শূন্য পদ রয়েছে। ফলে সেবাপ্রত্যাশী জনগণ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসক না পেয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে বেড না পেয়ে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। শয্যা সংকট নিরসনের জন্য নতুন বহুতল ভবনটি দ্রুত চালু করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ ইউনিট চালু করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, বরাদ্দকৃত ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে বিক্রি করে ওষুধ সংকট দেখানো হয়, রোগীদের প্রায়ই বাইরে থেকে ওষুধ কিনে এনে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। অপর্যাপ্ত ডাক্তার, টেকনিশিয়ান, অকার্যকর ইসিজি এক্স-রে মেশিন, ভর্তিরত রোগীদের অত্যন্ত নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই এ হাসপাতালে।
বক্তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে সব দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া, একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এক মাসের মধ্যে সব দাবি পূরণ করা না হলে আগামী ৩ মে আবারো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একটি গণসংগীত পরিবেশিত হয়।










