পোলট্রির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। রাজধানীর বাজারে বেশির ভাগ সবজিই ৮০ টাকার ওপরে। কিছু সবজির দাম ১০০ পেরিয়েছে। এছাড়া বেড়েছে ডাল, মসলা ও পেঁয়াজের দামও। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়েছে।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নতুন বাজার, বাড্ডা ও হাতিরপুল ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি পোলট্রির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। আর ডজন হিসেবে নিলে গুনতে হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকা এবং সোনালি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০-৩৮০ টাকা। গরুর মাংস ৭৮০-৮৫০ টাকা, খাসির মাংস বিক্রি হয় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
টিসিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার মাঝারি চালের দাম ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে যে আটাশ ও পাইজাম চাল ৬০-৬৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল, বুধবার থেকে সেটি কমে হয়েছে ৫২-৬৮ টাকা। একইভাবে মোটা বা স্বর্ণা জাতের চাল গত সপ্তাহে ৫৫-৬০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হয় ৪৮-৬০ টাকায়।
টিসিবির হিসাবে, গত দুইদিনে (১২ মে থেকে) প্যাকেটজাত ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত, খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ২ টাকা, সুপার পাম অয়েলের আড়াই টাকা। মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডালের দাম ছিল ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। তবে বুধবার থেকে সেটি বেড়ে সর্বনিম্ন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও মঙ্গলবার থেকে খুচরা বাজারে দেশী পেঁয়াজের দাম দাঁড়িয়েছে ৪০-৫০ টাকা। আমদানি করা আদার দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
চালের দাম কমার বিষয়টি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। কারওয়ান বাজারের একটি চালের দোকানের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন তো চাল ও ধানের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকরা ধান কাটছেন, বাজারেও ধানের সরবরাহ বেশি। সেজন্য কিছুটা দাম কমেছে।’
গতকাল কারওয়ান বাজারে সরজমিনে দেখা যায়, টমেটো প্রতি কেজি ৬০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০-১২০, কাঁচা দেশী পেঁপে ১০০, শসা ৮০, বেগুন ৮০-১০০, লাউ ৭০-৮০, কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। পটোল ৮০, ঢেঁড়স ৪০-৫০ এবং ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। এছাড়া বরবটি ৮০-১০০ টাকা, গাজর ৮০-১০০, চিচিঙ্গা ৬০-৮০, করলা ৮০-১০০, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪৫, আলু ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। পাঙাশের দাম ১৯০-২৪০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, দেড়-দুই কেজির দেশী রুই ৩৩০-৩৫০, আড়াই থেকে সাড়ে ৪ কেজি ওজনের রুই ৪০০-৪৫০, দেড়-দুই কেজির কাতল প্রতি কেজি ৩৪০-৩৬০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৭০০-৮০০, চাষের কৈ ২২০-২৫০, চাষের শিং ৩৮০-৫০০, পাবদা ৩৪০-৪০০, সিলভার কার্প ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, শীতকালের তুলনায় এখন বাজারে সবজির সরবরাহ কম। এছাড়া পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার বিষয়টির কথা বলছেন মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীরাও। যেটির প্রভাব পড়েছে বাজারের ওপর। এতে ভোক্তার ব্যয় বেড়েছে।
বাড্ডায় বাজার করতে আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘একটা জিনিসের দাম কমলেও তিনটার দাম বাড়ে। এভাবেই চলছে। যে যেভাবে পারে সেভাবে ভোক্তার পকেট কাটে। বাজারে কোনো শৃঙ্খলা নেই। একই পণ্য এক দোকান থেকে আরেক দোকানে গেলে দাম পরিবর্তন হয়ে যায়। কোনো নজরদারি নেই।’
কারওয়ান বাজারে কথা হয় আরেক ক্রেতা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস থেকে মাংসের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এখানে প্রশাসন ও সরকারি সংস্থাগুলোর কোনো নজরদারি নেই। এক-দেড় মাস আগেও ডিমের দাম ছিল প্রতি ডজন ১১০-১২০ টাকা, এখন ১৫০ টাকা। শাক, সবজি, মাছেও এমন অবস্থা। সাধারণ মানুষ কীভাবে বাঁচবে? এসব বলেও—বা কী হবে, এভাবেই চলবে।’










