এতে একটি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন এবং দুটি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে টার্মিনালের দক্ষিণ অংশে ৪ নম্বর বার্থের ‘আরটিজি ৪০১৪’ ক্রেনের ইঞ্জিনে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। এর ফলে জেটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বন্দর কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গতকাল বেলা সোয়া ৩টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর নিরাপত্তা ছাড়পত্র মেলায় বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে টার্মিনালে পুনরায় কনটেইনার অপারেশন শুরু হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিন জানান, আগুন লাগার পর পরই বন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস দল তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেয়।

তিনি বলেন, ‘গতকাল দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে এনসিটির দক্ষিণাঞ্চলের ৪ নম্বর বার্থে আরটিজি ৪০১৪-এ আগুন লাগে। চট্টগ্রাম বন্দর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করেন।’

তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা এ অভিযানে যোগ দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন।

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে এবং টার্মিনালের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।’

বন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি আরটিজি ক্রেন এবং কাছাকাছি থাকা দুটি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনারগুলোর একটিতে রেফ্রিজারেটর ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১১টি রেফ্রিজারেটর আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, আরটিজি ক্রেনের ইঞ্জিন রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্রেনটি টার্মিনাল ইয়ার্ডের ভেতরে কনটেইনার স্থানান্তরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।