রমজান উপলক্ষে ১৫ মার্চ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২৯টি নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে কোনো প্রভাব পড়েনি খুলনার বাজারে। রমজানের শুরুতে যে দামে পণ্যগুলো বাজারে বিক্রি হয়েছে সে দামেই এখনো বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বেড়েছে দু-একটি পণ্যের দাম। গতকাল খুলনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য মিলেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন নির্ধারিত দাম সম্পর্কে তারা জানেন না। তাদের কিছু বলা হয়নি। আবার কিছু ব্যবসায়ী বলছেন, বাজারে চাহিদার সঙ্গে জোগানের অসামঞ্জস্য, মোকাম থেকে বাড়তি মূল্যে কেনার কারণে চাইলেও সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করা যাচ্ছে না।
নগরের ময়লাপোতা কেসিসি সন্ধ্যা বাজার, গল্লামারী, বয়রাসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংসের দাম ৬৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭২০ টাকা কেজি। ছাগলের মাংস ১০০৩ টাকা ৫৬ পয়সার স্থলে ১ হাজার ১০০, ব্রয়লার ১৭৫ টাকা ৩০ পয়সার স্থলে ২০০, সোনালি ২৬২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া পণ্যের মধ্যে আরো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, পেঁয়াজসহ মসলা, সবজি, খেজুর, চিড়া ও সাগর কলা। নির্ধারণ করে দেয়ার পর ডালের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। অথচ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে, এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৪ টাকার কম। তিন পর্যায়ে মুনাফা যোগ করার পর প্রতি কেজির যৌক্তিক দাম ২৯ টাকা। এ দরেই তা বিক্রির কথা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে দেশী পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে ৬৫ টাকা ৪০ পয়সা। কিন্তু ৭০-৮০ টাকার নিচে বাজারে কোনো দেশী পেঁয়াজ মিলছে না।
তবে ময়লাপোতা কেসিসি সন্ধ্যা বাজার এবং নিউ মার্কেট কাঁচা বাজরে নগরের অন্য বাজারের চেয়ে নিত্যপণ্যের দাম বেশি রাখতে দেখা গেছে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সরকারি কোনো নির্দেশনাই মানছেন না ব্যবসায়ীরা। যে যার মতো পারছে দাম বাড়াচ্ছে। লাগামহীনভাবে চলছে বাজার। বাজার নিয়ন্ত্রণে শুধু দাম বেঁধে দিলেই চলবে না। নিয়মিত মনিটরিংও করতে হবে।’
এ ব্যাপারে খুলনার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা জিএম মহিউদ্দিন জানান, নতুন দাম সদ্য ঘোষণা হয়েছে। এটা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। অবশ্য নির্ধারিত দাম কার্যকর না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার অধিদপ্তরের নেই। নিজস্ব সক্ষমতা নেই তাদের। তারা অভিযোগ জানাতে পারেন। বিচার করবেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। তাদের পক্ষ থেকে বাজার মনিটর এবং মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে।










