কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুবীজের দাম ৬৮ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে কুড়িগ্রামের চিত্র ভিন্ন। ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বীজ। এর সঙ্গে রয়েছে সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ। সব মিলিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকের অনেকেই এবার আলু চাষে তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ অবস্থায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে বীজের দাম কিছুটা বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যত্যয় হবে না বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
প্রান্তিক কৃষক বলছেন, সরকারিভাবে আলুবীজের কেজি ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এছাড়াও সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ রয়েছে। বাজারে আলুর চাহিদা মেটাতে সরকারিভাবে কম দামে বীজসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের দাবি প্রান্তিক কৃষকের।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এ চরের জমিগুলোয় আগে কোনো আবাদ হতো না। গত বছর থেকে এখানে বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জমি লিজ নিয়ে আগাম আলু আবাদ করছেন। কিন্তু আমরা সেভাবে আবাদ করতে পারছি না। একদিকে আলুবীজের দাম বেশি, অন্যদিকে সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। এজন্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আলু আবাদ করতে পারছি না। বীজের দাম যদি কেজি প্রতি ৫০ টাকার মধ্যে থাকত তাহলে আবাদ সম্ভব হতো।’
রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের আলুচাষী বাবলু মিয়া জানান, গত বছরের চেয়ে এবার আলুবীজের দাম বেশি। গত বছর দুই একর জমিতে আলু আবাদ করেছিলাম। কিন্তু এ বছর এক একর জমি আবাদ করেছি।’
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আলু ব্যবসায়ী আদম আলী বলেন, ‘চরের ১০ একর জমি লিজ নিয়েছি। তবে সরকার নির্ধারিত ৬৮ টাকা কেজিতে বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিএডিসির হিমাগারে আবেদন করেও বীজ পাইনি। বাজারে ভালো বীজের কেজি ১০০ টাকার বেশি। এখন বেশি দামে বীজ কিনে কতটুকু জমি চাষ করতে পারব জানি না।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ১২ হাজার টন বীজ প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে বিএডিসিসহ জেলার পাঁচটি হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টন। বাকি বীজের চাহিদা কৃষক পর্যায়ে ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকসহ অন্যভাবে সংরক্ষণ করা বীজ থেকে পূরণ করা হবে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, বাজারে দাম কিছুটা বেশি হলেও আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ সার্বিক বিষয়ে চাষীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।










