সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক পক্ষের হামলায় অপর পক্ষের সাত নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। উপজেলার কলম ইউনিয়নের নুরপুর বাজারে গতকাল শনিবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও ওই নির্বাচনে জয় পান দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মইনুল হক। এর পর থেকে উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

সম্প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন একটি দলীয় অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ না জানানোর জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর মধ্যে ফেসবুকে দেয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের এক পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট পূর্ব বিরোধকে আরো গাঢ় করে তুলে।  

স্থানীয়রা জানান, নুরপুর বাজারের একটি চা স্টলে ঈদের দিন সন্ধ্যায় বসে নেতাকর্মীদের নিয়ে গল্প করছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিনের সমর্থক সিনিয়র সহ-সভাপতি এমদাদুল হক বাবলুসহ অন্যরা। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মইনুল হক চুন্নু ও তার ভাতিজা আসাদ আলীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে এমদাদুল হক বাবলুসহ সাতজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে গুরুতর তিনজন এমদাদুল হক বাবলু, আসাদুজ্জামান ভুট্টো ও কলেজশিক্ষক মো. কাজলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। 

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই সঙ্গে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে তিনি সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতারও হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন এ ঘটনার জন্য কলম ইউপির চেয়ারম্যান মইনুল হক ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন এবং শাস্তি দাবি করেন। তবে কলম ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুল হক চুন্নু বলেন, ‘হিরা নামের এক ছেলে আমার ফেসবুকে বিভিন্ন সময় হা হা রিঅ্যাক্ট ও বাজে কমন্টে করে। এরই জের ধরে আমার এক সমর্থকের সঙ্গে হিরার কথা কাটাকাটি হয়। প্রতিপক্ষরাই নুরপুর বাজারে আমার সমর্থককে আগে মারপিট করে। আমার লোকজনও আহত হয়েছে।’