খুলনা নগরীর ‘বাস্তুহারা-বয়রা হাউজিং বাজার’ নির্মাণের প্রায় ১০ বছর পার হলেও তা চালু হয়নি। বাজারটি চালুর ব্যাপারে একাধিকবার দোকান বরাদ্দের জন্য আবেদন জমা নেয়া হলেও বাস্তবে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারটি নির্মাণের পর দোকান বরাদ্দের আবেদন চাওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবেদন বেশি পড়ায় সে সময় বাজারটি চালু করা যায়নি। এখনো স্থানীয় প্রভাবশালীরা চান না তাদের বাইরে কাউকে বরাদ্দ দেয়া হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পাশে বাজারটি নির্ধারিত জায়গায় পুরোপুরি চালু না হলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতির বাইরে কিছু স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানও গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানের কেউই এ ব্যাপারে কথা বলতে চান না।

বাজারের তিনটি ছাউনির একটিতে কয়েকজন সবজি ও মাছ বিক্রি করেন। সকাল ১০টা নাগাদ শেষ হয়ে যায় অস্থায়ী ওই বেচাকেনা। আর অন্য দুটি ছাউনি পড়ে থাকে ফাঁকা। ফাঁকা ছাউনিতে বিভিন্ন ছোট ছোট দলের আড্ডা চলে। এদের প্রায় সবাই মোটরসাইকেল আরোহী যুবক।

মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মমিনুর রহমান বলেন, বাজারটিতে মূলত মুজগুন্নী, বাস্তুহারা, গোয়ালখালী, বয়রা হাউজিং ও নৌ কলোনির বাসিন্দারা বাজার করতে আসেন। স্থায়ীভাবে চালু না হওয়ায় ও অল্প সময়ের জন্য বসায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরের দৌলতপুর, বয়রা, চিত্রালী ও বৈকালী বাজারে যেতে বাধ্য হন।

মমিনুর বলেন, বাজারটি স্থায়ীভাবে চালু থাকলে আমাদের জন্য খুব সুবিধা হতো। একই কথা জানালেন নাসিমা বেগম, সাদিয়া ইসলামসহ কয়েকজন ক্রেতা। তারা ভোরে প্রতিদিন হাঁটতে বের হয়ে এখানে বাজার করেন। 

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বাজারটির নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে তিনটি আলাদা আলাদা ছাউনিতে ৪০টি তরকারি, ১৪টি মুদি, ১০টি মাছ, পাঁচটি করে মুরগি-মাংসের দোকানসহ মোট ৭৪টি দোকানের জায়গা আছে। ২০১৩ সালে দোকান বরাদ্দের জন্য আবেদন চাওয়া হলে সে সময় প্রায় ৪০০ জন বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন। পরে সেখানে পাইকারি পোলট্রি মার্কেট করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলতে থাকে।

২০১৭ সালের এক সভায় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুনরায় আবেদন গ্রহণ, বাজারটির নতুন নামকরণ, বাজারের অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ, একটি গভীর নলকূপ স্থাপনসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়। এর পরও কয়েক দফায় বাজারটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তা কাজে আসেনি।

বাজারের সামনের চত্বরের দোকানি আবদুর রউফ বলেন, বাজারের ল্যাম্পপোস্টে রাতে বাতি জ্বলে না। শৌচাগার, পানির ব্যবস্থা ও ঝাড়ুদার নেই। আমরা দোকান বরাদ্দের জন্য ফরমও কিনেছিলাম, বরাদ্দ না পাওয়ায় বাইরে ব্যবসা করছি। বাজারটি চালু হলে বেচাকেনা বাড়ত। এলাকার মানুষেরও উপকার হতো। খুলনা সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এম ডি মাহফুজুর রহমান লিটন বলেন, বাজারটি চালুর ব্যাপারে মেয়র মহোদয়কে বলেছি। তিনি দোকান বরাদ্দের ব্যাপারে কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুত বাজার চালু হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের বাজার সুপার আবদুল মাজেদ মোল্লা বলেন, বাস্তুহারা-বয়রা হাউজিং বাজার থেকে প্রতিদিন মাত্র ২৫০-৩০০ টাকার টোল আদায় হচ্ছে। এটা খুবই কম। অনেকে বাজারের নির্ধারিত জায়গায় না বসে আশপাশে ব্যবসা করতে চান। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।