নিরীক্ষাধর্মী শৈলির জন্য পরিচিতি গল্পকার-ঔপন্যাসিক ইচক দুয়েন্দে আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রাজশাহীতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছেন ইচক দুয়েন্দের বড় ভাই শামসুল আলম।

কয়েকটি আগে শামসুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করে জানিয়েছিলেন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইচক দুয়েন্দে।

১৯৬০ সালে জন্ম ইচক দুয়েন্দের। এক সময় শামসুল কবীর নামে নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করতেন তিনি।

জানা যায়, জীবনের দীর্ঘ ও সৃজনশীল সময় রাজশাহীতে কাটিয়েছে ইচক দুয়েন্দে। তিনি বিভিন্ন সময়ে কৃষি খামার পরিচালক, গ্রন্থ সম্পাদক ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সমালোচকদের মতে, ইচক দুয়েন্দের লেখায় রয়েছে জাদুবাস্তবতা, মনস্তত্ত্ব ও রূপকের এমন এক সূক্ষ্ম বিন্যাস, যা পাঠককে প্রচলিত চিন্তার বাইরে নিয়ে যেত। তার লেখায় গড়ে উঠেছিল ‘অল্টারনেটিভ ওয়ার্ল্ড’। জাদুবাস্তবতায় ঘেরা রূপকধর্মী উপন্যাস বা গল্পগ্রন্থ ‘টিয়াদুর’ তার সমাদৃত লেখার অন্যতম।

এছাড়া সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখেছেন উপন্যাস ‘লালঘর’। অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণবিষয়ক গদ্য ‘কলকাতা ভ্রমন্তিকা’ ও ‘কচিসমগ্র’। রচনা করেছেন ‘উই আর নট লাভার্স’ নামে ইংরেজি উপন্যাসও।

ইচক দুয়েন্দের প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার বন্ধু, অনুরাগী ও এ সময়ের অনেক লেখক।

কবি-গল্প নির্ঝর নৈঃশব্দ্য লেখেন, “একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ বিশেষ করে লেখক মরে গেলে পৃথিবীতে খুবই সামান্য হলেও অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়। এটাই অন্যান্য সাধারণের সঙ্গে এই শ্রেণির মানুষের ভেদ।

ইচক দুয়েন্দে একজক লেখক। কিন্তু কেমন লেখক? আমার মনে করি তেমনই লেখক, যেই লেখক মরে গেলে সামান্য নয়, অসামান্য অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়। আমার কথার সত্যতা তার পাঠক মাত্রই জানেন বলে আমার ধারণা।”